লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারে সক্রিয় হচ্ছে আল কায়েদা, জাতিসংঘের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা বাংলাদেশে তাদের সক্রিয় সেল গঠন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি প্রকাশিত নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীটি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ গত ১০ আগস্ট তাদের ৩৮তম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ বা একিউআইএস এখন একটি বিভক্ত গোষ্ঠী থেকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। তারা বড় কোনো ইউনিটের বদলে ছোট ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নিজস্ব লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার সামনে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণের পেছনেও এই একিউআইএসের হাত ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে নিজেদের সেল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংগঠনটি এ দেশকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত (আইএসআইএল) সংক্রান্ত এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই উভয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তবে কারিগরি কিছু জটিলতা বা চ্যালেঞ্জের কারণে তারা এখনো সফল হতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষভাগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আইএসআইএলের সঙ্গে জড়িত এক ডাক্তারসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের ‘রাইসিন’ নামের একটি রাসায়নিক বিষ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সিরিয়ায় বাসার আল আসাদের সরকারের ফেলে যাওয়া রাসায়নিক দ্রব্য দখলের চেষ্টাও করেছিল আইএসআইএল। এই কাজে সহায়তার জন্য তারা একজন রসায়ন প্রকৌশলীকে অপহরণও করেছিল। উল্লেখ্য, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে ২০২৪ সালে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছাড়েন সিরিয়ার তৎকালীন শাসক বাসার আল আসাদ।

এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএসআইএল ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্ষমতা আগের চেয়ে কমলেও ঝুঁকি এখনো কাটেনি। তারা বিক্ষিপ্ত সেল, উগ্রবাদে আগ্রহী ব্যক্তি, অনলাইন রিক্রুটমেন্ট ও বিভিন্ন অনুপ্রাণিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হুমকি তৈরি করে চলেছে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসবে হামলার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়। সেখানে গুলিবর্ষণে ১৬ জন নিহত হন। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারীরা আইএসআইএলের মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল এবং তারা পূর্বে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারে সক্রিয় হচ্ছে আল কায়েদা, জাতিসংঘের সতর্কতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা বাংলাদেশে তাদের সক্রিয় সেল গঠন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি প্রকাশিত নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীটি।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ গত ১০ আগস্ট তাদের ৩৮তম প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ বা একিউআইএস এখন একটি বিভক্ত গোষ্ঠী থেকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিচ্ছে। তারা বড় কোনো ইউনিটের বদলে ছোট ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নিজস্ব লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার সামনে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণের পেছনেও এই একিউআইএসের হাত ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশে নিজেদের সেল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংগঠনটি এ দেশকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত (আইএসআইএল) সংক্রান্ত এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই উভয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। তবে কারিগরি কিছু জটিলতা বা চ্যালেঞ্জের কারণে তারা এখনো সফল হতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষভাগে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আইএসআইএলের সঙ্গে জড়িত এক ডাক্তারসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের ‘রাইসিন’ নামের একটি রাসায়নিক বিষ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সিরিয়ায় বাসার আল আসাদের সরকারের ফেলে যাওয়া রাসায়নিক দ্রব্য দখলের চেষ্টাও করেছিল আইএসআইএল। এই কাজে সহায়তার জন্য তারা একজন রসায়ন প্রকৌশলীকে অপহরণও করেছিল। উল্লেখ্য, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ শেষে ২০২৪ সালে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে পরাজিত হয়ে দেশ ছাড়েন সিরিয়ার তৎকালীন শাসক বাসার আল আসাদ।

এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএসআইএল ও তাদের সহযোগী নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্ষমতা আগের চেয়ে কমলেও ঝুঁকি এখনো কাটেনি। তারা বিক্ষিপ্ত সেল, উগ্রবাদে আগ্রহী ব্যক্তি, অনলাইন রিক্রুটমেন্ট ও বিভিন্ন অনুপ্রাণিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হুমকি তৈরি করে চলেছে। এর একটি উদাহরণ হিসেবে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে ইহুদিদের হানুক্কা উৎসবে হামলার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়। সেখানে গুলিবর্ষণে ১৬ জন নিহত হন। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারীরা আইএসআইএলের মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল এবং তারা পূর্বে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিল।