লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলায়ন ও অসদাচরণের দায়ে ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল সরকার

সরকারি আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশ ক্যাডারের ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সদয় অনুমোদন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরামর্শক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্দেশ করে তার কথিত “স্যার, একটা গুলি করলে একটাই মরে” মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী। উল্লেখ্য, মো. গোলাম রুহানী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর ছোট ভাই।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে। একইভাবে, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২২ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। একাধিক নোটিশ দিয়েও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও ওই তারিখ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীমকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করা হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধেও ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস কক্সবাজারের ৮ এপিবিএনে কর্মরত অবস্থায় পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি শেষে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও আর ফিরে আসেননি। টানা ৬০ দিনের বেশি অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকায় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ওই তারিখ থেকেই তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী ডিএমপি থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএনে বদলি হওয়ার পর ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদন্ত এবং বিপিএসসির পরামর্শের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে কার্যকর করে তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে পৃথক তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউই অভিযোগের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেননি। পরবর্তীতে নিরপেক্ষ তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিপিএসসির পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(১)(ঘ) বিধি অনুযায়ী তাদের চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম

পলায়ন ও অসদাচরণের দায়ে ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৫৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশ ক্যাডারের ছয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সদয় অনুমোদন এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরামর্শক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্দেশ করে তার কথিত “স্যার, একটা গুলি করলে একটাই মরে” মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী। উল্লেখ্য, মো. গোলাম রুহানী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর ছোট ভাই।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কোনো ধরনের লিখিত বা মৌখিক অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে। একইভাবে, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ২২ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। একাধিক নোটিশ দিয়েও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও ওই তারিখ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীমকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করা হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। ১৪ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকেই বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধেও ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস কক্সবাজারের ৮ এপিবিএনে কর্মরত অবস্থায় পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি শেষে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও আর ফিরে আসেননি। টানা ৬০ দিনের বেশি অননুমোদিত অনুপস্থিত থাকায় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ওই তারিখ থেকেই তার চাকরিচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিপিএম) মো. গোলাম রুহানী ডিএমপি থেকে খাগড়াছড়ির এপিবিএনে বদলি হওয়ার পর ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদন্ত এবং বিপিএসসির পরামর্শের ভিত্তিতে ১১ আগস্ট ২০২৪ থেকে কার্যকর করে তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে পৃথক তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউই অভিযোগের জবাবে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেননি। পরবর্তীতে নিরপেক্ষ তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিপিএসসির পরামর্শ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(১)(ঘ) বিধি অনুযায়ী তাদের চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।