লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওষুধের নতুন নীতিমালা বাতিল, তিন দশক আগের নিয়মে ফিরল সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণয়ন করা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিল করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিন দশক আগের নিয়মে ফিরেছে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় আইন অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি, যা বাধ্যতামূলক ছিল।

চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সরকার ২৯৭টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে ১৯৯৪ সালের ১১৭টি ওষুধের তালিকার সঙ্গে আরও ১৮০টি ওষুধ যুক্ত করা হয়েছিল। এই নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি। তাদের দাবি ছিল, শিল্প মালিকদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৩০ জুন সংগঠনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নতুন তালিকা অবৈধভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে ওষুধের দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ বাজারে কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতামূলকভাবে ব্যবসা করে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারি দুর্বল হলে দরিদ্র রোগীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলেন, নজরদারি দুর্বল হলে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ জানান, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ বর্তমানে বাজারে নেই, তাই নতুন করে হালনাগাদ তালিকা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেনের মতে, পুরো কাঠামো বাতিল না করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধন করা যেত।

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগের তালিকা পর্যালোচনা করে নতুন তালিকা করা হবে এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০টি ওষুধ অনেক কোম্পানি উৎপাদন করে না এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ভিন্ন নামে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা রয়েছে যা সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করে ইরানের ড্রোন হামলা

ওষুধের নতুন নীতিমালা বাতিল, তিন দশক আগের নিয়মে ফিরল সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণয়ন করা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিল করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিন দশক আগের নিয়মে ফিরেছে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সময় আইন অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি, যা বাধ্যতামূলক ছিল।

চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সরকার ২৯৭টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে ১৯৯৪ সালের ১১৭টি ওষুধের তালিকার সঙ্গে আরও ১৮০টি ওষুধ যুক্ত করা হয়েছিল। এই নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি। তাদের দাবি ছিল, শিল্প মালিকদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৩০ জুন সংগঠনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নতুন তালিকা অবৈধভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে ওষুধের দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ বাজারে কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতামূলকভাবে ব্যবসা করে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারি দুর্বল হলে দরিদ্র রোগীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলেন, নজরদারি দুর্বল হলে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ জানান, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা অনেক ওষুধ বর্তমানে বাজারে নেই, তাই নতুন করে হালনাগাদ তালিকা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেনের মতে, পুরো কাঠামো বাতিল না করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধন করা যেত।

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, আগের তালিকা পর্যালোচনা করে নতুন তালিকা করা হবে এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০টি ওষুধ অনেক কোম্পানি উৎপাদন করে না এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ভিন্ন নামে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা রয়েছে যা সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।