লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা নজরুলকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম এবং আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার অভিযোগ করেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা জামিনে মুক্ত থাকলে সরকারি প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন বাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমান ও সহযোগীরা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন। এসময় বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয়। মামলার বাদীর দাবি, প্রকৌশলী জাহিদের অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আহত জাহিদ ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে হাজী নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হামলার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন। এদিকে, প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণ শেষ না হলে উপকূলীয় এলাকা ঝুঁকিতে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সব মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা নজরুলকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমানের আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম এবং আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার অভিযোগ করেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা জামিনে মুক্ত থাকলে সরকারি প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবু বক্কর ও সৈয়দ ইফতেখার আলী।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন বাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমান ও সহযোগীরা প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন। এসময় বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয়। মামলার বাদীর দাবি, প্রকৌশলী জাহিদের অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আহত জাহিদ ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে হাজী নজরুল ইসলাম শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং হামলার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন। এদিকে, প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণ শেষ না হলে উপকূলীয় এলাকা ঝুঁকিতে পড়বে।