লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফার্গুসনের উত্তরসূরি হতে রাজি হয়েছিলেন হোসে মরিনহো

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসূরি হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন হোসে মরিনহো এবং তিনি তা গ্রহণও করেছিলেন। দীর্ঘদিনের এই গুঞ্জন অবশেষে সত্য প্রমাণিত হলো পর্তুগিজ কোচের নিজের মুখেই। নেটফ্লিক্সে ১১ আগস্ট প্রচারিত ক্যারিয়ারভিত্তিক নতুন তথ্যচিত্রে মরিনহো জানান, রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার সময় তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন।

ফার্গুসনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৬ বছরে ইউনাইটেডকে ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতানো এই কিংবদন্তি কোচ বলেন, ‘আমি তাকে বসিয়ে পুরো পরিস্থিতি বুঝিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, সে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব বদলে গেল।’ কারণ হিসেবে চেলসির প্রতি মরিনহোর আবেগের কথা উঠে আসে। লন্ডনের এই ক্লাবটির হয়ে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে টানা দুইবার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিলেন তিনি।

ফার্গুসনের বর্ণনায়, এক রাতে মরিনহো কাঁদতে কাঁদতে তাকে ফোন করে বলেছিলেন, তিনি চেলসিকে কথা দিয়ে ফেলেছেন এবং তা ভাঙতে পারবেন না। মরিনহো জানান, ইউনাইটেডের প্রস্তাব পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করলেও রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর তার মনে হয়েছিল যেখানে তাকে ভালোবাসা হবে, সেখানেই যাওয়া উচিত। যদিও ইউনাইটেডের দায়িত্ব না নেওয়াকে তিনি একটি বড় সুযোগ হারানো হিসেবেই দেখেন, তবুও নিজের সেই সিদ্ধান্তের প্রতি তার কোনো অনুশোচনা নেই।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে চেলসিতে ফিরে মরিনহো তৃতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও লিগ কাপ জেতেন। এরপর ২০১৬ সালে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন এবং আড়াই বছরের কিছু বেশি সময়ে লিগ কাপ ও ইউরোপা লিগ জেতান। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসা মরিনহোর ক্যারিয়ারে ইকার ক্যাসিয়াসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টিও বেশ আলোচিত। ক্যাসিয়াস জানিয়েছেন তাদের সম্পর্ক শীতল হয়ে গিয়েছিল, আর সামি খেদিরার মতে এই দ্বন্দ্ব পুরো ড্রেসিংরুমকে অস্থির করে তুলেছিল। তবে মরিনহোর দাবি, খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধার অভ্যস্ততা এবং ক্যাসিয়াসের মনোভাবই ছিল সমস্যার মূল কারণ।

চেলসির সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গেও মরিনহোর সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে আব্রামোভিচ তাকে দুইবার বরখাস্ত করেছিলেন। মরিনহো দাবি করেন, প্রথম মেয়াদে আব্রামোভিচ দল গঠনে হস্তক্ষেপ করতেন, বিশেষ করে আন্দ্রেই শেভচেঙ্কোকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে তার আপত্তি ছিল। প্রায় ৩ কোটি পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দেওয়া শেভচেঙ্কো তিন বছরে ৪৮ লিগ ম্যাচে মাত্র ৯ গোল করেছিলেন। তবে ২০১০ সালে ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরে চেলসিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় করে তিনি সেই বরখাস্তের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন বলে জানান মরিনহো।

২০০৭ সালে বরখাস্ত হওয়ার পর প্রতিশোধের সুযোগ আসে ২০১০ সালে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফেরেন তিনি। ইন্টার সেদিন ১-০ গোলে জেতে এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে চেলসিকে বিদায় করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

ফার্গুসনের উত্তরসূরি হতে রাজি হয়েছিলেন হোসে মরিনহো

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের উত্তরসূরি হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন হোসে মরিনহো এবং তিনি তা গ্রহণও করেছিলেন। দীর্ঘদিনের এই গুঞ্জন অবশেষে সত্য প্রমাণিত হলো পর্তুগিজ কোচের নিজের মুখেই। নেটফ্লিক্সে ১১ আগস্ট প্রচারিত ক্যারিয়ারভিত্তিক নতুন তথ্যচিত্রে মরিনহো জানান, রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার সময় তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন।

ফার্গুসনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২৬ বছরে ইউনাইটেডকে ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতানো এই কিংবদন্তি কোচ বলেন, ‘আমি তাকে বসিয়ে পুরো পরিস্থিতি বুঝিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, সে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব বদলে গেল।’ কারণ হিসেবে চেলসির প্রতি মরিনহোর আবেগের কথা উঠে আসে। লন্ডনের এই ক্লাবটির হয়ে ২০০৫ ও ২০০৬ সালে টানা দুইবার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিলেন তিনি।

ফার্গুসনের বর্ণনায়, এক রাতে মরিনহো কাঁদতে কাঁদতে তাকে ফোন করে বলেছিলেন, তিনি চেলসিকে কথা দিয়ে ফেলেছেন এবং তা ভাঙতে পারবেন না। মরিনহো জানান, ইউনাইটেডের প্রস্তাব পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করলেও রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর তার মনে হয়েছিল যেখানে তাকে ভালোবাসা হবে, সেখানেই যাওয়া উচিত। যদিও ইউনাইটেডের দায়িত্ব না নেওয়াকে তিনি একটি বড় সুযোগ হারানো হিসেবেই দেখেন, তবুও নিজের সেই সিদ্ধান্তের প্রতি তার কোনো অনুশোচনা নেই।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে চেলসিতে ফিরে মরিনহো তৃতীয়বারের মতো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও লিগ কাপ জেতেন। এরপর ২০১৬ সালে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেন এবং আড়াই বছরের কিছু বেশি সময়ে লিগ কাপ ও ইউরোপা লিগ জেতান। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসা মরিনহোর ক্যারিয়ারে ইকার ক্যাসিয়াসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়টিও বেশ আলোচিত। ক্যাসিয়াস জানিয়েছেন তাদের সম্পর্ক শীতল হয়ে গিয়েছিল, আর সামি খেদিরার মতে এই দ্বন্দ্ব পুরো ড্রেসিংরুমকে অস্থির করে তুলেছিল। তবে মরিনহোর দাবি, খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধার অভ্যস্ততা এবং ক্যাসিয়াসের মনোভাবই ছিল সমস্যার মূল কারণ।

চেলসির সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গেও মরিনহোর সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০০৭ ও ২০১৫ সালে আব্রামোভিচ তাকে দুইবার বরখাস্ত করেছিলেন। মরিনহো দাবি করেন, প্রথম মেয়াদে আব্রামোভিচ দল গঠনে হস্তক্ষেপ করতেন, বিশেষ করে আন্দ্রেই শেভচেঙ্কোকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে তার আপত্তি ছিল। প্রায় ৩ কোটি পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দেওয়া শেভচেঙ্কো তিন বছরে ৪৮ লিগ ম্যাচে মাত্র ৯ গোল করেছিলেন। তবে ২০১০ সালে ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরে চেলসিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় করে তিনি সেই বরখাস্তের প্রতিশোধ নিয়েছিলেন বলে জানান মরিনহো।

২০০৭ সালে বরখাস্ত হওয়ার পর প্রতিশোধের সুযোগ আসে ২০১০ সালে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় ইন্টার মিলানের কোচ হিসেবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফেরেন তিনি। ইন্টার সেদিন ১-০ গোলে জেতে এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে চেলসিকে বিদায় করে।