লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য জনপদে শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ই-লার্নিং কার্যক্রম

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাব থাকায় শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ই-লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

ই-লার্নিং কার্যক্রমের আওতায় শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনলাইনের মাধ্যমে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১২টি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। এই বছরের জানুয়ারি মাসে তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে মোট ১৪৯টি বিদ্যালয়ে এটি সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ৫৫০টি বিদ্যালয়ে বর্তমানে টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া সংযোগ রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের স্বল্পতা দূর করতে ই-লার্নিং একটি কার্যকর সমাধান। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষক পাঠদান করতে পারায় ভৌগোলিক দূরত্ব আর শিক্ষার বাধা হয়ে থাকছে না। মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা থাকা এলাকাগুলোতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা স্টারলিংকের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সুযোগও তৈরি করছে। ই-ক্যাবের অ্যাড-টেক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, ই-লার্নিংয়ের একটি বড় সুবিধা হলো অভিভাবকরা সরাসরি তাদের সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। শিখো-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জিশান জাকারিয়া বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার আস্থা বাড়াতে তারা নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, শিক্ষার পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ ইন্টারনেট ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে ই-লার্নিং পদ্ধতি পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট

পার্বত্য জনপদে শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে ই-লার্নিং কার্যক্রম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার যোগাযোগ ও শিক্ষা অবকাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এসব এলাকায় বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাব থাকায় শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ই-লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

ই-লার্নিং কার্যক্রমের আওতায় শহরের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনলাইনের মাধ্যমে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ১২টি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। এই বছরের জানুয়ারি মাসে তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে মোট ১৪৯টি বিদ্যালয়ে এটি সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ৫৫০টি বিদ্যালয়ে বর্তমানে টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া সংযোগ রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের স্বল্পতা দূর করতে ই-লার্নিং একটি কার্যকর সমাধান। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষক পাঠদান করতে পারায় ভৌগোলিক দূরত্ব আর শিক্ষার বাধা হয়ে থাকছে না। মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা থাকা এলাকাগুলোতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা স্টারলিংকের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের সুযোগও তৈরি করছে। ই-ক্যাবের অ্যাড-টেক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, ই-লার্নিংয়ের একটি বড় সুবিধা হলো অভিভাবকরা সরাসরি তাদের সন্তানের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। শিখো-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জিশান জাকারিয়া বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার আস্থা বাড়াতে তারা নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, শিক্ষার পাশাপাশি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ ইন্টারনেট ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে ই-লার্নিং পদ্ধতি পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।