লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক বিপর্যয়ের পাশাপাশি শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হচ্ছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোকজের জবাব পাওয়ার পর তার ভিত্তিতেই পরবর্তী শাস্তির সুপারিশ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ২২৬টি, কারিগরি বোর্ডে ২৯টি এবং সাধারণ ৯টি বোর্ডে ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছরের তুলনায় এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭৮টি বেড়েছে। তবে সিলেট ও কুমিল্লা বোর্ডে এবার কোনো শূন্য পাস করা বিদ্যালয় নেই বলে জানা গেছে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান জানান, শূন্য পাস করা মাদরাসাগুলোকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং পাঁচ দিনে ভাগ করে তাদের বোর্ডে ডেকে ব্যাখ্যা শোনা হবে। বোর্ডের নিজস্ব কোনো সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার না থাকায়, ব্যাখ্যা শোনার পর তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাদরাসা অধিদপ্তরে পরবর্তী সুপারিশ পাঠাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও জনবল থাকার পরেও অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে পাস করাতে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়েও চাপের মুখে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের পরিস্থিতি দেখে অনেকেই শিক্ষা নেবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব পাওয়ার পর প্রতিবেদন তৈরি করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণত দ্বিতীয়বার একই ফল করলে সতর্ক করা হয় এবং তৃতীয়বার পুনরাবৃত্তি ঘটলে এমপিও বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই চূড়ান্ত শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে। এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও, পর্যাপ্ত জনবল থাকা সত্ত্বেও পাসের হার শূন্য হওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, এবার শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খুব কমসংখ্যক পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও তাদের অকৃতকার্য হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক থেকে ১০ জনের নিচে। তবে এবার সিলেট ও কুমিল্লা বোর্ডে কোনো শূন্য পাস বিদ্যালয় নেই বলে জানা গেছে।

শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মাধ্যমেও বেশ চাপের মুখে পড়ছে জানিয়ে এই শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আরো বলেন, আগে কেউ না পড়ে পাসের সুযোগ পেলেও এখন আর পাবে না। এবারের এই পরিস্থিতি দেখে অনেকেই শিক্ষা নেবে বলে আশা করেন তিনি। ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষক-জনবল থাকলেও অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে পাসের যোগ্য করতে না পারায়

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারবার, আটক ১

শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক বিপর্যয়ের পাশাপাশি শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হচ্ছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শোকজের জবাব পাওয়ার পর তার ভিত্তিতেই পরবর্তী শাস্তির সুপারিশ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ ২২৬টি, কারিগরি বোর্ডে ২৯টি এবং সাধারণ ৯টি বোর্ডে ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছরের তুলনায় এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭৮টি বেড়েছে। তবে সিলেট ও কুমিল্লা বোর্ডে এবার কোনো শূন্য পাস করা বিদ্যালয় নেই বলে জানা গেছে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান জানান, শূন্য পাস করা মাদরাসাগুলোকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং পাঁচ দিনে ভাগ করে তাদের বোর্ডে ডেকে ব্যাখ্যা শোনা হবে। বোর্ডের নিজস্ব কোনো সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার না থাকায়, ব্যাখ্যা শোনার পর তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাদরাসা অধিদপ্তরে পরবর্তী সুপারিশ পাঠাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও জনবল থাকার পরেও অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে পাস করাতে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়েও চাপের মুখে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের পরিস্থিতি দেখে অনেকেই শিক্ষা নেবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাব পাওয়ার পর প্রতিবেদন তৈরি করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাধারণত দ্বিতীয়বার একই ফল করলে সতর্ক করা হয় এবং তৃতীয়বার পুনরাবৃত্তি ঘটলে এমপিও বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই চূড়ান্ত শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে। এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও, পর্যাপ্ত জনবল থাকা সত্ত্বেও পাসের হার শূন্য হওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, এবার শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খুব কমসংখ্যক পরীক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও তাদের অকৃতকার্য হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক থেকে ১০ জনের নিচে। তবে এবার সিলেট ও কুমিল্লা বোর্ডে কোনো শূন্য পাস বিদ্যালয় নেই বলে জানা গেছে।

শূন্য পাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মাধ্যমেও বেশ চাপের মুখে পড়ছে জানিয়ে এই শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান আরো বলেন, আগে কেউ না পড়ে পাসের সুযোগ পেলেও এখন আর পাবে না। এবারের এই পরিস্থিতি দেখে অনেকেই শিক্ষা নেবে বলে আশা করেন তিনি। ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষক-জনবল থাকলেও অল্পসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে পাসের যোগ্য করতে না পারায়