লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে বোমা উদ্ধার ও নাশকতার ছক: ১১ ঘটনায় একই গোষ্ঠী

ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের মাঠে নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা কুকারটি বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দিলে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ বুধবার সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট কুকারটি নিষ্ক্রিয় করে, যা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাতে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি সেখানে ফেলে রেখে গিয়েছিল। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মোহাম্মদ আরিফ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিটিটিসি ইউনিট ১১টি পাইপ বোমা (আইইডি) ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে। বাড়ির মালিকের মেয়ে জবেনূর জিদনী জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তল্লাশি তালিকায় ওই কক্ষ থেকে ছয়টি বোমা, গানপাউডার, নাইট্রিক অ্যাসিড, বিয়ারিং বল ও ইলেকট্রিক তারসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় আরিফের কাছ থেকে একটি ব্যাগে ভর্তি পাঁচটি জিআই পাইপ বোমা, ছুরিসদৃশ্য তিনটি বোমা ও সরঞ্জাম পাওয়া গিয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিটিটিসি ও অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের মতে, কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যশোরে গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধারসহ অন্তত ১১টি ঘটনায় নব্য জেএমবির একই গোষ্ঠী জড়িত এবং তাদের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে বোমা রাখা হয়েছিল। আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে সাভারের আশুলিয়া এলাকার একটি মুদিদোকানে প্রেশার কুকার বোমাসহ একটি ব্যাগ ফেলে এসেছিলেন তাঁরা।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আল কুরা মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর থেকে নব্য জেএমবির অন্তত আটটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে পুলিশের ওপর হামলা, ৭ মার্চ কুমিল্লার মন্দিরে বোমা হামলা, ১২ মার্চ ফেনীতে সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে হত্যা, ২৫ মার্চ যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড়ে পাইপ বোমা বিস্ফোরণ, ২২ জুন উত্তরার দক্ষিণখানে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর বোমা হামলা, ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা উদ্ধার এবং ৩০ জুলাই আশুলিয়ায় প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার।

কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ আল আমিন ও অলি উল্লাহ জনির মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন। শেখ আল আমিন ২০১৭ ও ২০২০ সালে দুই দফা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উগ্রবাদী তৎপরতা–সংক্রান্ত মামলায়। তাঁর সহযোগী অলি উল্লাহ জনি ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, রূপগঞ্জ ও নরসিংদী থানার মামলায় গ্রেপ্তার হন। এছাড়া ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে বোমা বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম নিহত হন, যে মামলায় মামুনসহ সব আসামিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে খালাস দেয় আদালত।

সাভারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরিফ ২০২৩ সালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার আসামি ছিলেন। ওই মামলায় ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনায় সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে, যাতে আরিফ ছাড়াও নাজমুল হাসান মামুন, আব্বাস আলী, কামাল হোসেন ডাক্তার, বাপ্পী ও রাকিবসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট

সাভারে বোমা উদ্ধার ও নাশকতার ছক: ১১ ঘটনায় একই গোষ্ঠী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের মাঠে নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা কুকারটি বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দিলে ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ বুধবার সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট কুকারটি নিষ্ক্রিয় করে, যা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাতে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি ড্রামটি সেখানে ফেলে রেখে গিয়েছিল। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মোহাম্মদ আরিফ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিটিটিসি ইউনিট ১১টি পাইপ বোমা (আইইডি) ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে। বাড়ির মালিকের মেয়ে জবেনূর জিদনী জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলে কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তল্লাশি তালিকায় ওই কক্ষ থেকে ছয়টি বোমা, গানপাউডার, নাইট্রিক অ্যাসিড, বিয়ারিং বল ও ইলেকট্রিক তারসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় আরিফের কাছ থেকে একটি ব্যাগে ভর্তি পাঁচটি জিআই পাইপ বোমা, ছুরিসদৃশ্য তিনটি বোমা ও সরঞ্জাম পাওয়া গিয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিটিটিসি ও অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তাদের মতে, কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যশোরে গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধারসহ অন্তত ১১টি ঘটনায় নব্য জেএমবির একই গোষ্ঠী জড়িত এবং তাদের বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতরে বোমা রাখা হয়েছিল। আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে সাভারের আশুলিয়া এলাকার একটি মুদিদোকানে প্রেশার কুকার বোমাসহ একটি ব্যাগ ফেলে এসেছিলেন তাঁরা।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আল কুরা মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর থেকে নব্য জেএমবির অন্তত আটটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে পুলিশের ওপর হামলা, ৭ মার্চ কুমিল্লার মন্দিরে বোমা হামলা, ১২ মার্চ ফেনীতে সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে হত্যা, ২৫ মার্চ যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড়ে পাইপ বোমা বিস্ফোরণ, ২২ জুন উত্তরার দক্ষিণখানে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর বোমা হামলা, ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা উদ্ধার এবং ৩০ জুলাই আশুলিয়ায় প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার।

কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ আল আমিন ও অলি উল্লাহ জনির মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন। শেখ আল আমিন ২০১৭ ও ২০২০ সালে দুই দফা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উগ্রবাদী তৎপরতা–সংক্রান্ত মামলায়। তাঁর সহযোগী অলি উল্লাহ জনি ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, রূপগঞ্জ ও নরসিংদী থানার মামলায় গ্রেপ্তার হন। এছাড়া ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে বোমা বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলাম নিহত হন, যে মামলায় মামুনসহ সব আসামিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে খালাস দেয় আদালত।

সাভারের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরিফ ২০২৩ সালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলার আসামি ছিলেন। ওই মামলায় ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তাঁকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ ঘটনায় সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে, যাতে আরিফ ছাড়াও নাজমুল হাসান মামুন, আব্বাস আলী, কামাল হোসেন ডাক্তার, বাপ্পী ও রাকিবসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। সিটিটিসি প্রধান মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।