লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমের দাম বাড়লেও পিরোজপুরে বন্ধের পথে ৩০০ পোলট্রি খামার

পিরোজপুরে ডিমের দাম বাড়লেও পোলট্রি খামারিরা কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না। মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে ডিমের দাম বাড়লেও তার সুফল খামারিদের পকেটে পৌঁছাচ্ছে না। লোকসান সামলাতে হিমশিম খেয়ে জেলার প্রায় ৩০০টি খামার বর্তমানে বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

জেলায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই ডিম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায় ডিমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার জানান, জেলায় সাড়ে চার হাজারের বেশি পোলট্রি খামার থাকলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩০০ খামার বন্ধের মুখে। তবে এর বিপরীতে নতুন করে প্রায় ১৬০টি খামার গড়েও উঠেছে।

খামারিদের অভিযোগ, জুলাই মাসের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও আগস্টের শুরুতে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডজনে ২০ টাকা দাম বাড়লেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং উৎপাদন উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে খামারিরা লাভবান হতে পারছেন না। সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের খামারি ইমন শেখ জানান, কিছু ব্যবসায়ী কম দামে ডিম কিনে মজুত করে পরে বাড়তি দামে বাজারে ছাড়ে, যা খামারিদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের খামারি প্রসেনজিৎ হাওলাদার ডিমের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়ে বলেন, খাবার ও ওষুধের দাম না কমলে খামারিদের টিকে থাকা অসম্ভব। নেছারাবাদের দৈহারি ইউনিয়নের খামারি ফিরোজ শেখ জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি এবং ঋণের চাপে অনেক খামারি ইতিমধ্যে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

ডিমের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিক্রেতাদের তথ্যমতে, আগস্ট মাসে ডিমের বিক্রি গত মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সাধারণ ক্রেতারাও মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতে, খামারি থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রতি ডিমে দুই থেকে তিন টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়, যার দায়ভার মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খামারিদের ওপরই পড়ে। খামারিরা দাবি জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

ডিমের দাম বাড়লেও পিরোজপুরে বন্ধের পথে ৩০০ পোলট্রি খামার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুরে ডিমের দাম বাড়লেও পোলট্রি খামারিরা কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না। মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে ডিমের দাম বাড়লেও তার সুফল খামারিদের পকেটে পৌঁছাচ্ছে না। লোকসান সামলাতে হিমশিম খেয়ে জেলার প্রায় ৩০০টি খামার বর্তমানে বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

জেলায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই ডিম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায় ডিমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার জানান, জেলায় সাড়ে চার হাজারের বেশি পোলট্রি খামার থাকলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৩০০ খামার বন্ধের মুখে। তবে এর বিপরীতে নতুন করে প্রায় ১৬০টি খামার গড়েও উঠেছে।

খামারিদের অভিযোগ, জুলাই মাসের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও আগস্টের শুরুতে তা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডজনে ২০ টাকা দাম বাড়লেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং উৎপাদন উপকরণের উচ্চমূল্যের কারণে খামারিরা লাভবান হতে পারছেন না। সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের খামারি ইমন শেখ জানান, কিছু ব্যবসায়ী কম দামে ডিম কিনে মজুত করে পরে বাড়তি দামে বাজারে ছাড়ে, যা খামারিদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের খামারি প্রসেনজিৎ হাওলাদার ডিমের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়ে বলেন, খাবার ও ওষুধের দাম না কমলে খামারিদের টিকে থাকা অসম্ভব। নেছারাবাদের দৈহারি ইউনিয়নের খামারি ফিরোজ শেখ জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি এবং ঋণের চাপে অনেক খামারি ইতিমধ্যে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

ডিমের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিক্রেতাদের তথ্যমতে, আগস্ট মাসে ডিমের বিক্রি গত মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সাধারণ ক্রেতারাও মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতে, খামারি থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রতি ডিমে দুই থেকে তিন টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়, যার দায়ভার মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে খামারিদের ওপরই পড়ে। খামারিরা দাবি জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে।