লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতা না ছাড়া পর্যন্ত মোদি-অমিতকে শান্তিতে ঘুমাতে দেব না: রাহুল গান্ধী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কঠোর সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত মোদি ও শাহকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) নয়াদিল্লির মাভলঙ্কর হলে আয়োজিত ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে রাহুল গান্ধী এই হুঁশিয়ারি দেন। এই সময় তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, আরএসএসের ভূমিকা এবং সম্প্রতি তরুণদের আন্দোলন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র ও তরুণদের যে আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের ক্ষোভ ও মতামত প্রকাশ করেছেন। এই আন্দোলন দেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না বলে তিনি জানান। পাশাপাশি অমিত শাহকে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, একসময় শাহকে ‘চাণক্য’ বা বর্তমান যুগের ‘সর্দার পটেল’ বলে প্রচার করা হতো, কিন্তু এখন তিনি কোথায়? তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ দিন ধরে অমিত শাহকে সংসদে দেখা যায়নি।

সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি মনে করেন বিদেশনীতি মানে কেবল বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। তবে এই বন্ধুত্বের বাস্তব কোনো সুফল নেই, উল্টো যাদের সাথে মোদি বন্ধুত্ব করেছেন তারাই পরে তাকে বিপদে ফেলেছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে মঞ্চে ডেকে জড়িয়ে ধরেন রাহুল। এ সময় দীক্ষিত রসিকতা করে জানতে চান, রাহুল তাকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মনে করে জড়িয়ে ধরেছেন কি না, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মধ্যে হাসির খোরাক যোগায়।

আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, একসময় এই সংগঠনের সাথে ছোট ব্যবসায়ী, স্বর্ণকার ও দোকানদারদের সম্পৃক্ততা ছিল। কিন্তু নোট বাতিল এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালুর ফলে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। রাহুল দাবি করেন, আরএসএস এখন আর ছোট ব্যবসায়ীদের পাশে নেই, বরং এটি আদানি ও আম্বানির মতো বড় পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে এবং মোদি সরকারও বড় শিল্পপতিদের সুবিধা দিতে কাজ করছে।

এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা তুলে ধরেন রাহুল। তিনি বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া—এই তিন দেশের সাথেই ভারতের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ফলে শান্তি স্থাপনে ভারত চাইলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারত। কিন্তু ভারত সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে এবং পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে, আর নরেন্দ্র মোদি কেবল অবাক হয়ে তা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিল গেটস কন্যার স্টার্টআপে প্রতারণার অভিযোগ, সহপাঠীদের বিস্ফোরক তথ্য

ক্ষমতা না ছাড়া পর্যন্ত মোদি-অমিতকে শান্তিতে ঘুমাতে দেব না: রাহুল গান্ধী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৪:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কঠোর সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত মোদি ও শাহকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) নয়াদিল্লির মাভলঙ্কর হলে আয়োজিত ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে রাহুল গান্ধী এই হুঁশিয়ারি দেন। এই সময় তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, আরএসএসের ভূমিকা এবং সম্প্রতি তরুণদের আন্দোলন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র ও তরুণদের যে আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের ক্ষোভ ও মতামত প্রকাশ করেছেন। এই আন্দোলন দেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও অমিত শাহ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এবং তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না বলে তিনি জানান। পাশাপাশি অমিত শাহকে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, একসময় শাহকে ‘চাণক্য’ বা বর্তমান যুগের ‘সর্দার পটেল’ বলে প্রচার করা হতো, কিন্তু এখন তিনি কোথায়? তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ দিন ধরে অমিত শাহকে সংসদে দেখা যায়নি।

সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এই কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি মনে করেন বিদেশনীতি মানে কেবল বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। তবে এই বন্ধুত্বের বাস্তব কোনো সুফল নেই, উল্টো যাদের সাথে মোদি বন্ধুত্ব করেছেন তারাই পরে তাকে বিপদে ফেলেছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে মঞ্চে ডেকে জড়িয়ে ধরেন রাহুল। এ সময় দীক্ষিত রসিকতা করে জানতে চান, রাহুল তাকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মনে করে জড়িয়ে ধরেছেন কি না, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মধ্যে হাসির খোরাক যোগায়।

আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, একসময় এই সংগঠনের সাথে ছোট ব্যবসায়ী, স্বর্ণকার ও দোকানদারদের সম্পৃক্ততা ছিল। কিন্তু নোট বাতিল এবং ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালুর ফলে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। রাহুল দাবি করেন, আরএসএস এখন আর ছোট ব্যবসায়ীদের পাশে নেই, বরং এটি আদানি ও আম্বানির মতো বড় পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে এবং মোদি সরকারও বড় শিল্পপতিদের সুবিধা দিতে কাজ করছে।

এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা তুলে ধরেন রাহুল। তিনি বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া—এই তিন দেশের সাথেই ভারতের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ফলে শান্তি স্থাপনে ভারত চাইলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারত। কিন্তু ভারত সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে এবং পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে, আর নরেন্দ্র মোদি কেবল অবাক হয়ে তা চেয়ে চেয়ে দেখেছেন।