লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর জনজীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

নীলফামারীতে তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জেলার সামগ্রিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কলকারখানার ওপর।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট হলেও বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের এই উল্লেখযোগ্য ঘাটতিই বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলার ছয়টি থানায় আবেদনও করা হয়েছে।

বিদ্যুৎনির্ভর কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জেনারেটর ব্যবহার করে সচল থাকার চেষ্টা করলেও এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে কৃষিখাতেও। সেচনির্ভর বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও সদর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মনোয়ার মোর্শেদ জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায়ও একই কথা জানিয়ে বলেন, সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে, যা কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ বিশেষ দেশের হাতে তুলে দিয়েছিল বিগত সরকার’

তীব্র লোডশেডিংয়ে নীলফামারীর জনজীবন ও উৎপাদন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীতে তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জেলার সামগ্রিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কলকারখানার ওপর।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট হলেও বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের এই উল্লেখযোগ্য ঘাটতিই বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলার ছয়টি থানায় আবেদনও করা হয়েছে।

বিদ্যুৎনির্ভর কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান জেনারেটর ব্যবহার করে সচল থাকার চেষ্টা করলেও এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পণ্য সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে কৃষিখাতেও। সেচনির্ভর বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও সদর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রাতেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মনোয়ার মোর্শেদ জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায়ও একই কথা জানিয়ে বলেন, সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে, যা কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।