লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকায় অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ভবন বৈধ করার উদ্যোগ

পুরান ঢাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবনটি অবশেষে বৈধতা পাওয়ার পথে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ও নিয়ম না মানার বিষয়টি নজরে আসায় ২০১৭ সাল থেকে মন্ত্রণালয় এর কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর এখন কোনো ধরনের সুরাহা ছাড়াই ভবনটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ড্যাপের নির্দেশনা এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইনসহ প্রয়োজনীয় সব শর্ত উপেক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া বহুতল ভবন হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক কমিশন বাণিজ্য হয়েছিল। এছাড়া দোকান বরাদ্দ ও নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের পর এই ভবনের সব ফাইল রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় এবং এ ঘটনায় জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান জানান, সরকারি সংস্থা আইন ভাঙলে তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। তিনি রাজউকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত বড় ভবন অনুমোদন ছাড়া কীভাবে হলো এবং তখন রাজউক কোথায় ছিল?

ঢাকা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ ভবনটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে যৌথ জরিপ, কারিগরি যাচাই ও পুনঃদরপত্রের কার্যক্রম চলছে এবং রাজউক থেকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ নূর-ই-খোদা জানান, ভবনটিতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে বলে এটি নষ্ট করা উচিত নয় এবং অনুমোদিত ভবনের নকশা পরবর্তীতেও অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ঢাকা জেলা পরিষদ ১৫ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী ঠিকাদার মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের কাজের যৌথ পরিমাপ ও জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এলজিইডি ভবনটির টেকনিক্যাল ভেরিফিকেশন ও সার্টিফিকেশনের কাজ শুরু করেছে। ভবনটিতে দুটি বেজমেন্ট, ২০টি ফ্লোর, বাণিজ্যিক স্পেস ও অডিটোরিয়াম রয়েছে। বর্তমানে উত্তরা থেকে পরিচালিত জেলা পরিষদের কার্যক্রম নিজস্ব এই ভবনে স্থানান্তর করাই কর্তৃপক্ষের প্রথম অগ্রাধিকার। ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা শুভ জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং বিগত সময়ের ব্যত্যয় সংশোধন করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই স্ত্রীর হাতাহাতিতে জ্ঞান হারালেন মিশরের ফুটবল কোচ হোসাম হাসান

পুরান ঢাকায় অবৈধভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ভবন বৈধ করার উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

পুরান ঢাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মিত ঢাকা জেলা পরিষদের ২০ তলা ভবনটি অবশেষে বৈধতা পাওয়ার পথে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ও নিয়ম না মানার বিষয়টি নজরে আসায় ২০১৭ সাল থেকে মন্ত্রণালয় এর কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর এখন কোনো ধরনের সুরাহা ছাড়াই ভবনটি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড, ড্যাপের নির্দেশনা এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইনসহ প্রয়োজনীয় সব শর্ত উপেক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া বহুতল ভবন হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া নিয়ে ব্যাপক কমিশন বাণিজ্য হয়েছিল। এছাড়া দোকান বরাদ্দ ও নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের পর এই ভবনের সব ফাইল রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায় এবং এ ঘটনায় জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান জানান, সরকারি সংস্থা আইন ভাঙলে তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। তিনি রাজউকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এত বড় ভবন অনুমোদন ছাড়া কীভাবে হলো এবং তখন রাজউক কোথায় ছিল?

ঢাকা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ ভবনটি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে যৌথ জরিপ, কারিগরি যাচাই ও পুনঃদরপত্রের কার্যক্রম চলছে এবং রাজউক থেকে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ নূর-ই-খোদা জানান, ভবনটিতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে বলে এটি নষ্ট করা উচিত নয় এবং অনুমোদিত ভবনের নকশা পরবর্তীতেও অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ঢাকা জেলা পরিষদ ১৫ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী ঠিকাদার মেসার্স তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেডের কাজের যৌথ পরিমাপ ও জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এলজিইডি ভবনটির টেকনিক্যাল ভেরিফিকেশন ও সার্টিফিকেশনের কাজ শুরু করেছে। ভবনটিতে দুটি বেজমেন্ট, ২০টি ফ্লোর, বাণিজ্যিক স্পেস ও অডিটোরিয়াম রয়েছে। বর্তমানে উত্তরা থেকে পরিচালিত জেলা পরিষদের কার্যক্রম নিজস্ব এই ভবনে স্থানান্তর করাই কর্তৃপক্ষের প্রথম অগ্রাধিকার। ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা শুভ জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং বিগত সময়ের ব্যত্যয় সংশোধন করা হচ্ছে।