লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ডিবি হারুনের গোপন বন্দিশালা

তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হক গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী আদম তমিজী হককে গ্রেফতারের পর কারাগারে না পাঠিয়ে তাকে রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। শুধু বন্দি রাখাই নয়, তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণেরও অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে। ওইদিন আদম তমিজী হক ফেসবুক লাইভে তৎকালীন হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করলে ডিবি হারুন তার পিছু নেন। তাকে গ্রেফতারের পর আইন অনুযায়ী জেলহাজতে না পাঠিয়ে নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ের মধ্যে হারুন ও তার দলবল তমিজীর পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক দলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, নিরাময়কেন্দ্রে আনার পর তমিজী হককে পরীক্ষা করে কোনো মানসিক রোগ ধরা পড়েনি। এরপরও ডিবি হারুন তাকে সেখানে আটকে রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। চিকিৎসকরা আদালতের আদেশ নিয়ে আসতে বললে হারুন ক্ষিপ্ত হন এবং বীকন পয়েন্টের কয়েকজন কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।

সূত্র জানায়, কোনো চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তমিজীকে সেখানে বন্দি রাখা হয়। নিরাময়কেন্দ্রের একটি ফ্লোর খালি করে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে রাখা হয়েছিল, যেখানে তার জন্য পৃথক খাবার, পানীয় ও বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। নারকোটিক্সের এক উপপরিচালক জানান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হারুনের ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট, যার কারণে এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

একই নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেনি। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর লাশ লুকিয়ে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও অপরাধের ঘটনাগুলো তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চিরকাল আড়ালেই থেকে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্চের নিন্দা খেলাফত মজলিসের

মাদক নিরাময়কেন্দ্রের আড়ালে ডিবি হারুনের গোপন বন্দিশালা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে ব্যক্তিগত বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হক গ্রুপের কর্ণধার ব্যবসায়ী আদম তমিজী হককে গ্রেফতারের পর কারাগারে না পাঠিয়ে তাকে রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। শুধু বন্দি রাখাই নয়, তাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণেরও অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে। ওইদিন আদম তমিজী হক ফেসবুক লাইভে তৎকালীন হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করলে ডিবি হারুন তার পিছু নেন। তাকে গ্রেফতারের পর আইন অনুযায়ী জেলহাজতে না পাঠিয়ে নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ের মধ্যে হারুন ও তার দলবল তমিজীর পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী চিকিৎসক দলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, নিরাময়কেন্দ্রে আনার পর তমিজী হককে পরীক্ষা করে কোনো মানসিক রোগ ধরা পড়েনি। এরপরও ডিবি হারুন তাকে সেখানে আটকে রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। চিকিৎসকরা আদালতের আদেশ নিয়ে আসতে বললে হারুন ক্ষিপ্ত হন এবং বীকন পয়েন্টের কয়েকজন কর্মকর্তা চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।

সূত্র জানায়, কোনো চিকিৎসা সনদ ছাড়াই তমিজীকে সেখানে বন্দি রাখা হয়। নিরাময়কেন্দ্রের একটি ফ্লোর খালি করে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে রাখা হয়েছিল, যেখানে তার জন্য পৃথক খাবার, পানীয় ও বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। নারকোটিক্সের এক উপপরিচালক জানান, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে হারুনের ঘনিষ্ঠতা ছিল ওপেন সিক্রেট, যার কারণে এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

একই নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেনি। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর পর লাশ লুকিয়ে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব অনিয়ম ও অপরাধের ঘটনাগুলো তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চিরকাল আড়ালেই থেকে গেছে।