লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুথারের ১০ উইকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় জয় ভারতের

বৃষ্টির বাধা আর স্লো পিচের কঠিন পরীক্ষা পেরিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে ভারত। চতুর্থ দিনেই স্বাগতিকদের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে সফরকারীরা। এই জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল শুবমান গিলের দল।

ভারতের কাছে এটি ছিল ৬০০তম টেস্ট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই ১৭ উইকেটের মালিক হলেন মানব সুথার। ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ঘরের বাইরে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে সাদা বলের ক্রিকেটে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়লেন।

ভারতের দেওয়া ৩৭২ রানের লক্ষ্যে ৪ উইকেটে ৮৪ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা থামে ২০৬ রানে। ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক শুবমান গিল বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি জয়। আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মানব সুথার যেভাবে বল করছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সে দীর্ঘ সময় ভারতের হয়ে খেলার মতো একজন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়।’

গলের স্লো পিচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যে কতটা কঠিন, তা ভালোভাবেই জানা ছিল লঙ্কান ব্যাটারদের। জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট। উইকেটে থিতু হয়ে দারুণ এক জুটি গড়েছিলেন সোনাল দিনুশা (৮৪) ও ধনঞ্জয় ডি সিলভা (৫৯)। দুজনেই তুলে নেন অর্ধশতক। দলীয় রানের চাকা সচল রেখে ভারতের জয়কে দীর্ঘায়িত করেন তারা।

তবে রবীন্দ্র জাদেজার স্পিন ভেলকিতে ভাঙে এই জুটি। ধনঞ্জয়কে আউট করে ভারতকে স্বস্তি ফেরান জাদেজা। এরপর উইকেটে এসে নিরোশান ডিকওয়েল্লা মারমুখী হওয়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্রসিধ কৃষ্ণার শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট আসে সুথারের বোলিংয়ে। একপ্রান্তে দিনুশা ৮৪ রান করে সেঞ্চুরির দিকে এগোলেও সুথারের ঘূর্ণিতে সব ওলটপালট হয়ে যায়। লেগ গালিতে ক্যাচ দিয়ে দিনুশা ফেরার পরই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার। মাত্র ১০ বলের ব্যবধানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন সুথার। এই ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ১০ উইকেট নেন এই স্পিনার।

শেষ পর্যন্ত ২০৬ রানে গুটিয়েছে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ভারতের ৪৬২ রানের জবাবে ২৮৪ রান করেছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীদের ১৯৩ রান আটকে দিয়েও কাজের কাজটা করতে পারেনি তারা।

ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনাঞ্জয় ডি সিলভা বলেন, ‘দ্বিতীয় দিন থেকেই আমরা লড়াইয়ে ছিলাম। তবে চতুর্থ ইনিংসে গলে ব্যাট করা সহজ নয়। প্রথম ইনিংসে ভারতের বড় সংগ্রহ আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। টসও বড় একটা ভূমিকা রেখেছে।’

দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। আগামী ২৩ আগস্ট সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসএসসি) সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামবে দুদল।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

সুথারের ১০ উইকেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় জয় ভারতের

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বৃষ্টির বাধা আর স্লো পিচের কঠিন পরীক্ষা পেরিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে ভারত। চতুর্থ দিনেই স্বাগতিকদের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে সফরকারীরা। এই জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল শুবমান গিলের দল।

ভারতের কাছে এটি ছিল ৬০০তম টেস্ট। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই ১৭ উইকেটের মালিক হলেন মানব সুথার। ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ঘরের বাইরে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে সাদা বলের ক্রিকেটে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়লেন।

ভারতের দেওয়া ৩৭২ রানের লক্ষ্যে ৪ উইকেটে ৮৪ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা থামে ২০৬ রানে। ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক শুবমান গিল বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি জয়। আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মানব সুথার যেভাবে বল করছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সে দীর্ঘ সময় ভারতের হয়ে খেলার মতো একজন প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়।’

গলের স্লো পিচে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা যে কতটা কঠিন, তা ভালোভাবেই জানা ছিল লঙ্কান ব্যাটারদের। জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট। উইকেটে থিতু হয়ে দারুণ এক জুটি গড়েছিলেন সোনাল দিনুশা (৮৪) ও ধনঞ্জয় ডি সিলভা (৫৯)। দুজনেই তুলে নেন অর্ধশতক। দলীয় রানের চাকা সচল রেখে ভারতের জয়কে দীর্ঘায়িত করেন তারা।

তবে রবীন্দ্র জাদেজার স্পিন ভেলকিতে ভাঙে এই জুটি। ধনঞ্জয়কে আউট করে ভারতকে স্বস্তি ফেরান জাদেজা। এরপর উইকেটে এসে নিরোশান ডিকওয়েল্লা মারমুখী হওয়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। প্রসিধ কৃষ্ণার শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট আসে সুথারের বোলিংয়ে। একপ্রান্তে দিনুশা ৮৪ রান করে সেঞ্চুরির দিকে এগোলেও সুথারের ঘূর্ণিতে সব ওলটপালট হয়ে যায়। লেগ গালিতে ক্যাচ দিয়ে দিনুশা ফেরার পরই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার। মাত্র ১০ বলের ব্যবধানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন সুথার। এই ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ১০ উইকেট নেন এই স্পিনার।

শেষ পর্যন্ত ২০৬ রানে গুটিয়েছে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ভারতের ৪৬২ রানের জবাবে ২৮৪ রান করেছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীদের ১৯৩ রান আটকে দিয়েও কাজের কাজটা করতে পারেনি তারা।

ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনাঞ্জয় ডি সিলভা বলেন, ‘দ্বিতীয় দিন থেকেই আমরা লড়াইয়ে ছিলাম। তবে চতুর্থ ইনিংসে গলে ব্যাট করা সহজ নয়। প্রথম ইনিংসে ভারতের বড় সংগ্রহ আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছিল। টসও বড় একটা ভূমিকা রেখেছে।’

দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। আগামী ২৩ আগস্ট সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসএসসি) সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামবে দুদল।