লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের ভোটগ্রহণ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে যেসব পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী, সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিইসি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তিনি বলেন, সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর দুই মাস সময় রেখে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়। সেই হিসেবে সেপ্টেম্বরে তফসিল দিলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোট শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে কিছু নির্বাচন বছরের শেষে এবং কিছু আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিইসি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সামনে রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ এ বছর শেষ হওয়ায় এগুলোর নির্বাচন চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করা জরুরি। এছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশন এমনভাবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে চায় যাতে ইউপি নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের মধ্যে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।

নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে কিছু প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে নাসির উদ্দীন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি, দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততা এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রমজান, ঈদ-উল-আযহা ও বর্ষা মৌসুমের কারণে সময় খুবই সীমিত। কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগুলো দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানাবে, যাতে নির্বাচনের সময়সূচিতে কোনো প্রভাব না পড়ে।

সর্বশেষ ২০২১ সালে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার উদাহরণ টেনে সিইসি জানান, এবারও শুষ্ক মৌসুমকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রেও শুষ্ক মৌসুমের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। এছাড়া ভোটের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজতর করা এবং এনআইডি জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণে কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সিইসি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘যদি সম্ভব হয়, আমরা এন্ড অব নভেম্বর শুরু করতে পারি, যদি পরীক্ষাটা এগিয়ে আসে।’.ইউপি নির্বাচন ইসির প্রথম টার্গেটইউনিয়ন পরিষদের ভোটের প্রসঙ্গ টেনে সর্বশেষ নির্বাচন সাত ধাপে হয়েছে উল্লেখ করে সিইসি জানান, ২০২১ সালে প্রথম ধাপে ইউপি ভোট হয়েছে জুন মাসে ৩৭১টি; এবারও এটাই ইসির প্রথম টার্গেট থাকবে।

কারণ, সেখানে আইনি কিছু বাধ্যবাধতা রয়েছে (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে)।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে হট্টগোল, জামায়াত আমিরের তীব্র প্রতিবাদ

বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নির্বাচন কমিশন (ইসি) চলতি বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের ভোটগ্রহণ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে যেসব পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী, সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিইসি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তিনি বলেন, সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর দুই মাস সময় রেখে ভোটগ্রহণের আয়োজন করা হয়। সেই হিসেবে সেপ্টেম্বরে তফসিল দিলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোট শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে কিছু নির্বাচন বছরের শেষে এবং কিছু আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিইসি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সামনে রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ এ বছর শেষ হওয়ায় এগুলোর নির্বাচন চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করা জরুরি। এছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশন এমনভাবে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে চায় যাতে ইউপি নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের মধ্যে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।

নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে কিছু প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে নাসির উদ্দীন বলেন, বন্যা পরিস্থিতি, দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যস্ততা এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রমজান, ঈদ-উল-আযহা ও বর্ষা মৌসুমের কারণে সময় খুবই সীমিত। কমিশন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগুলো দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানাবে, যাতে নির্বাচনের সময়সূচিতে কোনো প্রভাব না পড়ে।

সর্বশেষ ২০২১ সালে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার উদাহরণ টেনে সিইসি জানান, এবারও শুষ্ক মৌসুমকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রেও শুষ্ক মৌসুমের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। এছাড়া ভোটের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজতর করা এবং এনআইডি জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণে কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সিইসি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘যদি সম্ভব হয়, আমরা এন্ড অব নভেম্বর শুরু করতে পারি, যদি পরীক্ষাটা এগিয়ে আসে।’.ইউপি নির্বাচন ইসির প্রথম টার্গেটইউনিয়ন পরিষদের ভোটের প্রসঙ্গ টেনে সর্বশেষ নির্বাচন সাত ধাপে হয়েছে উল্লেখ করে সিইসি জানান, ২০২১ সালে প্রথম ধাপে ইউপি ভোট হয়েছে জুন মাসে ৩৭১টি; এবারও এটাই ইসির প্রথম টার্গেট থাকবে।

কারণ, সেখানে আইনি কিছু বাধ্যবাধতা রয়েছে (মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে)।