লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে আংশিকভাবে উপস্থাপন করে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। শনিবার দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এ ধরনের উপস্থাপনাকে ইতিহাস বিকৃতির পাঁয়তারা হিসেবে অভিহিত করেন।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল পুরাতন বন্দোবস্ত ছুড়ে ফেলে দেশ উপযোগী নতুন বন্দোবস্তের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বর্তমানে কতিপয় নেতা পুরাতন রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি-নৈতিকতাকে নতুন সিস্টেম হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন, যার প্রতিফলন এই জাদুঘরেও দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের ইতিহাস থেকে ইসলামপন্থীদের অবদান মুছে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনের শুরু থেকে বিশেষ করে ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি এবং 'দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও জাদুঘরের প্রদর্শনীতে স্থান পায়নি। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৯ জুলাই তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তা আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল। তিনি বলেন, 'হে নরপিশাচ! তুই আমার সন্তানের বুকে কেন গুলি করলি?'

এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কেএম শরীয়াতুল্লাহ জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে এত বড় একটি প্রজেক্ট নেওয়া হলেও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জঘন্য টিকেটিং সিস্টেম, চেকিং সিস্টেমের জিরো লেভেল এবং ইতিহাসের খণ্ডিত উপস্থাপন জনগণের মনে আঘাত দিয়েছে। তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকারী প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসাইন, তরিক মাসউদ, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীন, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আকন, সহ-প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ বিলাল হোসাইন পাটোয়ারী, সহ-দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা নিজাম উদ্দীন, সহ-ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর, সহ-নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু হানিফ, মাওলানা খোরশেদ আলম এবং আরিয়ান মো. ইমন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁঠালিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে

জুলাই জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ইতিহাসকে আংশিকভাবে উপস্থাপন করে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ। শনিবার দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এ ধরনের উপস্থাপনাকে ইতিহাস বিকৃতির পাঁয়তারা হিসেবে অভিহিত করেন।

শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল পুরাতন বন্দোবস্ত ছুড়ে ফেলে দেশ উপযোগী নতুন বন্দোবস্তের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বর্তমানে কতিপয় নেতা পুরাতন রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি-নৈতিকতাকে নতুন সিস্টেম হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছেন, যার প্রতিফলন এই জাদুঘরেও দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের ইতিহাস থেকে ইসলামপন্থীদের অবদান মুছে ফেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনের শুরু থেকে বিশেষ করে ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি এবং 'দফা এক, দাবি এক—শেখ হাসিনার পদত্যাগ'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও জাদুঘরের প্রদর্শনীতে স্থান পায়নি। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৯ জুলাই তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, তা আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল। তিনি বলেন, 'হে নরপিশাচ! তুই আমার সন্তানের বুকে কেন গুলি করলি?'

এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কেএম শরীয়াতুল্লাহ জাদুঘরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে এত বড় একটি প্রজেক্ট নেওয়া হলেও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জঘন্য টিকেটিং সিস্টেম, চেকিং সিস্টেমের জিরো লেভেল এবং ইতিহাসের খণ্ডিত উপস্থাপন জনগণের মনে আঘাত দিয়েছে। তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকারী প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারি ফজলুল হক মৃধা, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুফতি আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কামাল হোসাইন, তরিক মাসউদ, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা গাজী নাজিমুদ্দীন, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আকন, সহ-প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মাদ বিলাল হোসাইন পাটোয়ারী, সহ-দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা নিজাম উদ্দীন, সহ-ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আবু বকর, সহ-নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু হানিফ, মাওলানা খোরশেদ আলম এবং আরিয়ান মো. ইমন।