লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে নতুন সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই সংলাপগুলো দ্রুত চালুর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ‘কৌশলগত সংলাপ’ দ্রুত শুরুর বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর চীনকে বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ‘এক চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে, সে বিষয়েও প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এই সম্পর্ককে ‘অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যতের লক্ষ্যে চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন।

উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদী বিষয়ক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা। এছাড়া কৃষি খাতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি শুরুর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবীরকে অভিনন্দন জানান এবং চীনের নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। রাষ্ট্রদূত দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সিদ্ধান্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর। এছাড়া মোংলায় নতুন একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে বন্যা থেকে বাঁচল ৯০০ শিক্ষার্থী

বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে নতুন সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করতে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই সংলাপগুলো দ্রুত চালুর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ’ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ‘কৌশলগত সংলাপ’ দ্রুত শুরুর বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর চীনকে বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ‘এক চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে, সে বিষয়েও প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এই সম্পর্ককে ‘অংশীদারিত্বমূলক ভবিষ্যতের লক্ষ্যে চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন।

উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা নদী বিষয়ক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা। এছাড়া কৃষি খাতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানি শুরুর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় হুমায়ুন কবীরকে অভিনন্দন জানান এবং চীনের নির্বাহী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। রাষ্ট্রদূত দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সিদ্ধান্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর। এছাড়া মোংলায় নতুন একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলে প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।