লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অপসারণ দাবিতে প্রেসক্লাবে মানববন্ধন

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ‘পিআইবি বাঁচাও, ফারুক ওয়াসিফকে হটাও’ স্লোগান নিয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সিনিয়র সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি রাজিব তালুকদার, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক সজীব তালুকদার এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন। এছাড়াও সিনিয়র সাংবাদিক নীলিমা, সাংবাদিক জোটের সভাপতি ইকবাল হোসেন সরদার এবং সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম যুবরাজসহ অনেকে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন এবং বিধিবহির্ভূত নিয়োগের নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। গত ১৮ মাসে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপসারণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বক্তাদের দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপপরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার ও সিনিয়র প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।

কর্মসূচিতে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর মানসিক চাপ ও হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা জানান, গবেষণা কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে, প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলমকে শোকজ করে চাকরিচ্যুতির চেষ্টা চলছে এবং এমএলএসএস মো. মাহবুব আলমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এই তালিকায় কামরুন নাহার, মো. নিজাম উদ্দিন, মিজানুর রহমান সরকার, আবদুল্লাহ আল মামুন, মাহবুবুল আলম, আবদুল জব্বার, ইসলাম সিকদার, শাহ মো. গোলাম রহমান মজনু, মো. সোহেল, তাজুল ইসলাম, মাহফুজ ইসলাম ও আমিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন বক্তারা। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদ উদ্দিন পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁকে পিআইবি কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

আর্থিক অনিয়মের বিবরণ দিতে গিয়ে মানববন্ধনে বলা হয়, ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা’ এবং ‘গণআন্দোলনের দিশা ও দর্শন’ কর্মসূচির নামে একই দিনে একাধিক কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার তোলা হয়েছে। বক্তারা আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারি অডিটে ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে ১৭টি অডিট আপত্তি উঠেছে। এর মধ্যে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের বেআইনিভাবে বোনাস প্রদান, ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ বাবদ ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নগদে পরিশোধ এবং এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পিআইবির অবসরপ্রাপ্ত হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে উচ্চ বেতনে অস্থায়ীভাবে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দিয়ে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার (ডিডিও) দায়িত্ব দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তাদের মতে, কোনো অস্থায়ী কর্মকর্তা সরকারি অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হতে পারেন না। ফারুক ওয়াসিফের অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থায়ী কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানে একটি ভীতিকর কর্মপরিবেশ তৈরি করেছেন বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের অপসারণ দাবিতে প্রেসক্লাবে মানববন্ধন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের দ্রুত অপসারণ ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি-অনিয়মের তদন্ত দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ‘পিআইবি বাঁচাও, ফারুক ওয়াসিফকে হটাও’ স্লোগান নিয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সিনিয়র সাংবাদিক মামুনুর রশীদ নোমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি রাজিব তালুকদার, বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক সজীব তালুকদার এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন। এছাড়াও সিনিয়র সাংবাদিক নীলিমা, সাংবাদিক জোটের সভাপতি ইকবাল হোসেন সরদার এবং সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম যুবরাজসহ অনেকে কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন এবং বিধিবহির্ভূত নিয়োগের নানা অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। গত ১৮ মাসে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত অপসারণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বক্তাদের দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালক (প্রশাসন), উপপরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার ও সিনিয়র প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।

কর্মসূচিতে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর মানসিক চাপ ও হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়। বক্তারা জানান, গবেষণা কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে, প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলমকে শোকজ করে চাকরিচ্যুতির চেষ্টা চলছে এবং এমএলএসএস মো. মাহবুব আলমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এই তালিকায় কামরুন নাহার, মো. নিজাম উদ্দিন, মিজানুর রহমান সরকার, আবদুল্লাহ আল মামুন, মাহবুবুল আলম, আবদুল জব্বার, ইসলাম সিকদার, শাহ মো. গোলাম রহমান মজনু, মো. সোহেল, তাজুল ইসলাম, মাহফুজ ইসলাম ও আমিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন বক্তারা। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদ উদ্দিন পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁকে পিআইবি কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

আর্থিক অনিয়মের বিবরণ দিতে গিয়ে মানববন্ধনে বলা হয়, ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা’ এবং ‘গণআন্দোলনের দিশা ও দর্শন’ কর্মসূচির নামে একই দিনে একাধিক কর্মশালা দেখিয়ে ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার ভুয়া বিল-ভাউচার তোলা হয়েছে। বক্তারা আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারি অডিটে ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে ১৭টি অডিট আপত্তি উঠেছে। এর মধ্যে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের বেআইনিভাবে বোনাস প্রদান, ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ বাবদ ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা নগদে পরিশোধ এবং এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পিআইবির অবসরপ্রাপ্ত হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে উচ্চ বেতনে অস্থায়ীভাবে উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে নিয়োগ দিয়ে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার (ডিডিও) দায়িত্ব দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তাদের মতে, কোনো অস্থায়ী কর্মকর্তা সরকারি অর্থ লেনদেনের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা হতে পারেন না। ফারুক ওয়াসিফের অনুসারী কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্থায়ী কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানে একটি ভীতিকর কর্মপরিবেশ তৈরি করেছেন বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।