লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলান্দহে বিতরণের আগেই সরকারি ত্রাণের মেয়াদ শেষ, দরিদ্রদের ক্ষোভ

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৫৯

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে বিতরণ করা ত্রাণের প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্যাকেটের গায়ে ‘অর্থবছর ২০২৪-২০২৫’ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নাম উল্লেখ থাকলেও পণ্যগুলোর অনেকগুলোই দীর্ঘদিনের পুরোনো বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে স্থানীয় ৯০ জন অসহায় মানুষের মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চালের পাশাপাশি এক কেজি করে তেল, লবণ, চিনি ও ডাল এবং ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া ও ১০০ গ্রাম করে ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ত্রাণ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অনেকেই দেখতে পান যে বেশ কিছু পণ্যের মেয়াদ ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে, আর কিছু পণ্যের মেয়াদ শেষ হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর মেলান্দহ পৌরসভার হাসনা বেগম ত্রাণের একটি প্যাকেট পান। তাঁর ব্যাগে থাকা লবণের প্যাকেটে মেয়াদের তারিখ ছিল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত, যা বিতরণের দুই দিন আগেই পার হয়ে যায়। ওই একই ব্যাগে থাকা সয়াবিন তেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। একই দিনে ত্রাণ পাওয়া লিটন ও বারেকের প্যাকেটেও একই ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ৬ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়া মলিকাডাঙ্গা এলাকার রত্না বেগম ও জোসনা বেগম এবং হাজরাবাড়ি এলাকার হুরমুজও একই অভিযোগ করেন। তাঁরা জানান, ব্যাগের ভেতরের মসলা, চিনি ও লবণ পুরোনো হয়ে শক্ত ও জমাট বেঁধে রয়েছে এবং কিছু প্যাকেট ছেঁড়াও ছিল。

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনা বেগম বলেন, তাঁরা সাধারণ মানুষ হওয়ায় মেয়াদ দেখে নিতে পারেননি। লবণের মেয়াদ যে আগেই শেষ হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে অন্য পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেগুলো খেয়ে শেষ করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি উদ্বেগ জানান। রত্না বেগম বলেন, তাঁর ব্যাগের লবণ জমাট বাঁধা ছিল এবং চিনি-ডালের প্যাকেট হালকা ছেঁড়া ছিল। এত আগের জিনিস এত দিন পর বিতরণ করায় এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জোসনা বেগমও তাঁর প্যাকেটের চিনি ও মসলা দলা পাকিয়ে থাকার কথা নিশ্চিত করেন।

এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণসামগ্রী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব পণ্য কোথায় এবং কত দিন সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা জানান, জুলাই মাসের প্রথম দিকে তারা ত্রাণের চিঠি পান এবং এর কিছুদিন পরেই ত্রাণসামগ্রী আসে। এরপর তালিকা তৈরি করে অসহায়দের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ পাওয়ার পর তা উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখান থেকে কীভাবে বিতরণ করা হয়েছে, তা তিনি জানি না। মেলান্দহের পিআইও বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল ত্রাণসামগ্রী ক্রয়ের সময়, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিতরণের আগে মেয়াদ যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় স্কুলের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি হামলায় শিশু ওয়াফা নিহত

মেলান্দহে বিতরণের আগেই সরকারি ত্রাণের মেয়াদ শেষ, দরিদ্রদের ক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৫৯

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণের আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে বিতরণ করা ত্রাণের প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্যাকেটের গায়ে ‘অর্থবছর ২০২৪-২০২৫’ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নাম উল্লেখ থাকলেও পণ্যগুলোর অনেকগুলোই দীর্ঘদিনের পুরোনো বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে স্থানীয় ৯০ জন অসহায় মানুষের মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চালের পাশাপাশি এক কেজি করে তেল, লবণ, চিনি ও ডাল এবং ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া ও ১০০ গ্রাম করে ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ত্রাণ নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অনেকেই দেখতে পান যে বেশ কিছু পণ্যের মেয়াদ ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে, আর কিছু পণ্যের মেয়াদ শেষ হতে মাত্র কয়েক দিন বাকি রয়েছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর মেলান্দহ পৌরসভার হাসনা বেগম ত্রাণের একটি প্যাকেট পান। তাঁর ব্যাগে থাকা লবণের প্যাকেটে মেয়াদের তারিখ ছিল ৩১ আগস্ট পর্যন্ত, যা বিতরণের দুই দিন আগেই পার হয়ে যায়। ওই একই ব্যাগে থাকা সয়াবিন তেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। একই দিনে ত্রাণ পাওয়া লিটন ও বারেকের প্যাকেটেও একই ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাওয়া যায়। এছাড়া ৬ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়া মলিকাডাঙ্গা এলাকার রত্না বেগম ও জোসনা বেগম এবং হাজরাবাড়ি এলাকার হুরমুজও একই অভিযোগ করেন। তাঁরা জানান, ব্যাগের ভেতরের মসলা, চিনি ও লবণ পুরোনো হয়ে শক্ত ও জমাট বেঁধে রয়েছে এবং কিছু প্যাকেট ছেঁড়াও ছিল。

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনা বেগম বলেন, তাঁরা সাধারণ মানুষ হওয়ায় মেয়াদ দেখে নিতে পারেননি। লবণের মেয়াদ যে আগেই শেষ হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে অন্য পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেগুলো খেয়ে শেষ করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি উদ্বেগ জানান। রত্না বেগম বলেন, তাঁর ব্যাগের লবণ জমাট বাঁধা ছিল এবং চিনি-ডালের প্যাকেট হালকা ছেঁড়া ছিল। এত আগের জিনিস এত দিন পর বিতরণ করায় এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জোসনা বেগমও তাঁর প্যাকেটের চিনি ও মসলা দলা পাকিয়ে থাকার কথা নিশ্চিত করেন।

এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ত্রাণসামগ্রী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব পণ্য কোথায় এবং কত দিন সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা জানান, জুলাই মাসের প্রথম দিকে তারা ত্রাণের চিঠি পান এবং এর কিছুদিন পরেই ত্রাণসামগ্রী আসে। এরপর তালিকা তৈরি করে অসহায়দের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ পাওয়ার পর তা উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখান থেকে কীভাবে বিতরণ করা হয়েছে, তা তিনি জানি না। মেলান্দহের পিআইও বর্তমানে প্রশিক্ষণে থাকায় তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল ত্রাণসামগ্রী ক্রয়ের সময়, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বিতরণের আগে মেয়াদ যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।