লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অডিও ফাঁসের পর ক্যান্টনমেন্টের সাবেক ওসির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা, তদন্তে কমিটি

সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া রাকিবুল হাসান বর্তমানে ঠিক কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

ডিএমপির দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাকিবুল হাসানকে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ১২টার দিকেও তিনি সেখানে ছিলেন। তবে এরপর তাঁর অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকিবুলের বর্তমান অবস্থান জানতে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের আটজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি রাকিবুল হাসানের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, গতকাল তিনি রাকিবুলকে ডিএমপি সদর দপ্তরে দেখেছেন, তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন তা তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরে কমিটির এক সদস্য এবং ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদীও রাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি।

এর আগে গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে কণ্ঠটি রাকিবুল হাসানেরই। অডিওতে তাঁকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

অডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএমপি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্তে ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন এবং আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, 'জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।'

ওই অডিওতে তিনি আরও বলেন, 'সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবাদাবা,…নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।'

এছাড়া, পুলিশের ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, মনির নামে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন। তিনি বলেন, 'এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।'

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মন্ত্রী বড়, নাকি এমপি’—কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

অডিও ফাঁসের পর ক্যান্টনমেন্টের সাবেক ওসির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা, তদন্তে কমিটি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া রাকিবুল হাসান বর্তমানে ঠিক কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

ডিএমপির দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাকিবুল হাসানকে রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ১২টার দিকেও তিনি সেখানে ছিলেন। তবে এরপর তাঁর অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাকিবুলের বর্তমান অবস্থান জানতে পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের আটজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি রাকিবুল হাসানের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাকিবুল হাসানকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, গতকাল তিনি রাকিবুলকে ডিএমপি সদর দপ্তরে দেখেছেন, তবে বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন তা তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরে কমিটির এক সদস্য এবং ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদীও রাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি।

এর আগে গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাকিবুল হাসানের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে কণ্ঠটি রাকিবুল হাসানেরই। অডিওতে তাঁকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

অডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএমপি।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্তে ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য জানান, তাঁরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন এবং আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ডিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, 'জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।'

ওই অডিওতে তিনি আরও বলেন, 'সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবাদাবা,…নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।'

এছাড়া, পুলিশের ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, মনির নামে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন। তিনি বলেন, 'এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।'