লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মন্ত্রী বড়, নাকি এমপি’—কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে আয়োজিত এক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আলোচনা সভায় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও অনেক জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকায় তাঁদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?’

শনিবারের এই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কর্মকর্তারা এখানে ফাজলামি বা পিকনিক করতে আসেননি; তাঁদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ডাকা হয়েছে। কর্মকর্তাদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বিষয়টি নোট করে রাখার নির্দেশ দেন এবং বলেন, কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করবেন, সেটিই তিনি বুঝতে পারছেন না।

সভার একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন। সেখানে ১০টি উপজেলার বিপরীতে মাত্র ছয়জন কর্মকর্তা দাঁড়িয়েছেন দেখে তিনি বাকিদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সামনে থেকে জানানো হয়, ওই নির্বাহী প্রকৌশলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো উদ্বোধনী বা অন্য কর্মসূচির বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের তা সমন্বয় করতে হবে। সংসদ সদস্যকে জানাতে হবে যে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রী তাঁদের ডেকেছেন এবং প্রয়োজনে পরের দিন বসবেন। গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় এমপিকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।

বান্দরবান জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলা হলে সাতটি উপজেলার মধ্যে মাত্র একজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ও বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড় করালে উপস্থিতির চিত্র আরও ভয়াবহ মনে হতে পারে। এরপর খাগড়াছড়ি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলা হলে মাত্র তিনজন দাঁড়ান। নেত্রকোনা জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড় করিয়েও একই চিত্র দেখতে পান তিনি। তবে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় একজন উপজেলা প্রকৌশলী অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরে কর্মকর্তাদের হাজিরার তথ্য যাচাই করে জানা যায়, মোট ৫০৩ জনের মধ্যে ৪৪০ জন উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীদের সবাই ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়, সভায় প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মন্ত্রী বড়, নাকি এমপি’—কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

‘মন্ত্রী বড়, নাকি এমপি’—কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে আয়োজিত এক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আলোচনা সভায় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও অনেক জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকায় তাঁদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?’

শনিবারের এই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কর্মকর্তারা এখানে ফাজলামি বা পিকনিক করতে আসেননি; তাঁদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ডাকা হয়েছে। কর্মকর্তাদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বিষয়টি নোট করে রাখার নির্দেশ দেন এবং বলেন, কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করবেন, সেটিই তিনি বুঝতে পারছেন না।

সভার একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন। সেখানে ১০টি উপজেলার বিপরীতে মাত্র ছয়জন কর্মকর্তা দাঁড়িয়েছেন দেখে তিনি বাকিদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সামনে থেকে জানানো হয়, ওই নির্বাহী প্রকৌশলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো উদ্বোধনী বা অন্য কর্মসূচির বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের তা সমন্বয় করতে হবে। সংসদ সদস্যকে জানাতে হবে যে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রী তাঁদের ডেকেছেন এবং প্রয়োজনে পরের দিন বসবেন। গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় এমপিকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।

বান্দরবান জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলা হলে সাতটি উপজেলার মধ্যে মাত্র একজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ও বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড় করালে উপস্থিতির চিত্র আরও ভয়াবহ মনে হতে পারে। এরপর খাগড়াছড়ি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলা হলে মাত্র তিনজন দাঁড়ান। নেত্রকোনা জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড় করিয়েও একই চিত্র দেখতে পান তিনি। তবে ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় একজন উপজেলা প্রকৌশলী অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরে কর্মকর্তাদের হাজিরার তথ্য যাচাই করে জানা যায়, মোট ৫০৩ জনের মধ্যে ৪৪০ জন উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীদের সবাই ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়, সভায় প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালকেরা।