লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ২৭

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান জুলফিকার হামিদ এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আহতের সংখ্যা অন্তত ৭৫ বলে আল-জাজিরা জানিয়েছে, তবে চিকিৎসক তাহির শাহের তথ্যমতে এই সংখ্যা ১০০ জনের বেশি।

হামলার ধরন সম্পর্কে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের একটি মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ইসলামাবাদ থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানান, এই বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ছয়জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে শহরের দূরবর্তী এলাকা থেকেও শব্দ শোনা গেছে এবং মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুলিশ স্টেশনের বাইরের দেয়ালও ধসে পড়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটি অংশ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তালেবান কমান্ডার হাফিজ গুল বাহাদুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ নামের একটি গোষ্ঠী এই আত্মঘাতী হামলা চালানোর দাবি করেছে। কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের ভিজিটিং অধ্যাপক মাইকেল সেম্পলের মতে, এই ধরনের জটিল হামলা প্রশিক্ষণ ও রসদ সহায়তা ছাড়া পরিচালনা করা অসম্ভব। তিনি ধারণা করছেন, আফগান তালেবানের আশ্রয় পেয়ে আল-কায়েদা এবং টিটিপির বিভিন্ন অংশ এসব হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, কোহাট শহরটি আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এটি উত্তর ওয়াজিরিস্তানসহ বন্নু ও ডেরা ইসমাইল খানের মতো অশান্ত অঞ্চলে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান তালেবান তাদের মাটিতে টিটিপি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। এই হামলার মাত্র দুই দিন আগে হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর বহরে পুঁতে রাখা বোমার আঘাতে ছয় সেনা সদস্য নিহত হয়েছিলেন এবং বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনীর অভিযানে ১০ সন্দেহভাজন তালেবান যোদ্ধা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কোহাটের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে তাপমাত্রা

পাকিস্তানের মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ২৭

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান জুলফিকার হামিদ এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া হামলায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আহতের সংখ্যা অন্তত ৭৫ বলে আল-জাজিরা জানিয়েছে, তবে চিকিৎসক তাহির শাহের তথ্যমতে এই সংখ্যা ১০০ জনের বেশি।

হামলার ধরন সম্পর্কে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের একটি মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। ইসলামাবাদ থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানান, এই বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ছয়জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে শহরের দূরবর্তী এলাকা থেকেও শব্দ শোনা গেছে এবং মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুলিশ স্টেশনের বাইরের দেয়ালও ধসে পড়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটি অংশ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তালেবান কমান্ডার হাফিজ গুল বাহাদুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ নামের একটি গোষ্ঠী এই আত্মঘাতী হামলা চালানোর দাবি করেছে। কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের ভিজিটিং অধ্যাপক মাইকেল সেম্পলের মতে, এই ধরনের জটিল হামলা প্রশিক্ষণ ও রসদ সহায়তা ছাড়া পরিচালনা করা অসম্ভব। তিনি ধারণা করছেন, আফগান তালেবানের আশ্রয় পেয়ে আল-কায়েদা এবং টিটিপির বিভিন্ন অংশ এসব হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

উল্লেখ্য, কোহাট শহরটি আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এটি উত্তর ওয়াজিরিস্তানসহ বন্নু ও ডেরা ইসমাইল খানের মতো অশান্ত অঞ্চলে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান তালেবান তাদের মাটিতে টিটিপি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। এই হামলার মাত্র দুই দিন আগে হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর বহরে পুঁতে রাখা বোমার আঘাতে ছয় সেনা সদস্য নিহত হয়েছিলেন এবং বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনীর অভিযানে ১০ সন্দেহভাজন তালেবান যোদ্ধা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কোহাটের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।