লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফোন ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় কিশোর অপ্রতিমকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় পুলিশ দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড (পিসিপিআর) নেই। এছাড়া ১৯ বছরের আরেক তরুণকে আটক করে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সাইফুলের সঙ্গে লালমাই পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা যায়। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সাইফুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে পাহাড়ের নির্জন বনে অপ্রতিমের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাইফুল ও ওই দুই কিশোর লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতরা কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সন্তানদের চলাফেরা ও ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে মা-বাবাদের সচেতন হতে হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে রোপা আমন ধান কাটা শুরু, ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের হাসি

ফোন ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় কিশোর অপ্রতিমকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় পুলিশ দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড (পিসিপিআর) নেই। এছাড়া ১৯ বছরের আরেক তরুণকে আটক করে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সাইফুলের সঙ্গে লালমাই পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা যায়। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সাইফুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ি থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে পাহাড়ের নির্জন বনে অপ্রতিমের ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাইফুল ও ওই দুই কিশোর লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলমান। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতরা কোনো কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সন্তানদের চলাফেরা ও ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে মা-বাবাদের সচেতন হতে হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।