লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাতারবাড়ী বন্দর ঘিরে জাপানের পরিকল্পনায় ভারতের ইতিবাচক সাড়া

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে জাপানের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক শিল্প ও যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি মনে করছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। ভারত ও জাপান বর্তমানে তাদের কৌশলগত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারত ও জাপানকে যুক্ত করে বেশ কিছু যৌথ উদ্যোগ বর্তমানে চলমান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৌশলগত যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের জাপানি ভাষা শিখতে উৎসাহিত করছে ভারত সরকার, যাতে দুই দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর জাপানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছিল যে, টোকিও মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এই পরিকল্পনায় বন্দর, শিল্পাঞ্চল, পরিবহন ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোকে একত্রিত করা হবে, যা বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বন্দরটি চালু হলে বড় আকারের জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য বাংলাদেশের অবকাঠামো ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারলে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ বন্দরসেবা, গুদামজাতকরণ ও শিল্প খাতে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করবে।

ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতুর মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে মাতারবাড়ী প্রকল্পকে ঘিরে নতুন এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকাকে টোকিওর আদলে পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

মাতারবাড়ী বন্দর ঘিরে জাপানের পরিকল্পনায় ভারতের ইতিবাচক সাড়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে জাপানের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক শিল্প ও যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি মনে করছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে। ভারত ও জাপান বর্তমানে তাদের কৌশলগত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, জাপানের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারত ও জাপানকে যুক্ত করে বেশ কিছু যৌথ উদ্যোগ বর্তমানে চলমান। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কৌশলগত যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের জাপানি ভাষা শিখতে উৎসাহিত করছে ভারত সরকার, যাতে দুই দেশের মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর জাপানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছিল যে, টোকিও মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এই পরিকল্পনায় বন্দর, শিল্পাঞ্চল, পরিবহন ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোকে একত্রিত করা হবে, যা বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বন্দরটি চালু হলে বড় আকারের জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য বাংলাদেশের অবকাঠামো ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারলে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ বন্দরসেবা, গুদামজাতকরণ ও শিল্প খাতে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করবে।

ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতুর মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তবে মাতারবাড়ী প্রকল্পকে ঘিরে নতুন এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।