লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭

সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত প্রীতি গ্রুপের এফএনএফ পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় কারখানায় প্রায় সাড়ে তিনশ শ্রমিক কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারখানার সামনে থাকা সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। একের পর এক বিস্ফোরণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কারখানাসহ আশপাশের আরও পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানান, এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় কারখানার কাছে থাকা একটি চায়ের দোকানে থাকা জয়নব (৫৫) নামের এক নারীও নিহত হয়েছেন। জয়নব গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ছিলেন। তার মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, তিনি টেইলার্সের দোকানে কাজ করেন এবং তার মা সেখানে বেড়াতে এসে দোকানের ভেতরেই ছিলেন।

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই পথচারী ও সবজি বিক্রেতা। গুরুতর আহত ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হবে।

প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন দাবি করেছেন, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানাপ্রাচীরের পাশে ভবনের কোণায় আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি জানান।

নিহত ওই নারী ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, তার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন জয়নব। সানজিদা টেইলার্সে কাজ করেন। ওই টেইলার্সের দোকানের ভেতরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা। বাকি পাঁচজনের লাশ কভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আগুন কোথা থেকে লেগেছে আর ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে, এটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানাতে হবে।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনরাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টায় আটক ১

জনপ্রিয় সংবাদ

জাদু-টোনা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? জানুন ভয়াবহতা ও প্রতিকার

আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত প্রীতি গ্রুপের এফএনএফ পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় কারখানায় প্রায় সাড়ে তিনশ শ্রমিক কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে কারখানার সামনে থাকা সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। একের পর এক বিস্ফোরণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কারখানাসহ আশপাশের আরও পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম রাত সাড়ে ১২টার দিকে জানান, এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিস্ফোরণের সময় কারখানার কাছে থাকা একটি চায়ের দোকানে থাকা জয়নব (৫৫) নামের এক নারীও নিহত হয়েছেন। জয়নব গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী ছিলেন। তার মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, তিনি টেইলার্সের দোকানে কাজ করেন এবং তার মা সেখানে বেড়াতে এসে দোকানের ভেতরেই ছিলেন।

আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই পথচারী ও সবজি বিক্রেতা। গুরুতর আহত ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হবে।

প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন দাবি করেছেন, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানাপ্রাচীরের পাশে ভবনের কোণায় আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটেছে বলে তিনি জানান।

নিহত ওই নারী ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, তার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন জয়নব। সানজিদা টেইলার্সে কাজ করেন। ওই টেইলার্সের দোকানের ভেতরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা। বাকি পাঁচজনের লাশ কভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আগুন কোথা থেকে লেগেছে আর ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে, এটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানাতে হবে।’ আরও পড়ুনআরও পড়ুনরাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টায় আটক ১