লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে সিঙ্গাপুর সরকারের নতুন আর্থিক প্রণোদনা

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৯। মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। মোবাইল ফোনে দীর্ঘসময় ব্যয় করার কুঅভ্যাস কমিয়ে বইমুখী করতে সরকারি একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বই পড়ার সময় নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চলতি মাস থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে একজন পাঠককে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে হবে। একজন অংশগ্রহণকারী দৈনিক সর্বোচ্চ একটি পড়ার সেশন নথিভুক্ত করতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী, এভাবে ৫০টি সেশন সম্পন্ন করলে পাঠক ১ সিঙ্গাপুর ডলার পাবেন। যদিও এই অর্থের পরিমাণ সামান্য, তবুও মনোবিজ্ঞানী ও আচরণবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ও ‘দ্য অ্যাংজাস জেনারেশন’ বইয়ের লেখক জনাথন হেইডট উল্লেখ করেছেন, শিশু-কিশোরদের আচরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পুরস্কার কার্যকর হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বই পড়ার আনন্দ যদি স্বতঃস্ফূর্ত না হয়, তবে অর্থ প্রদানের কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেলে পড়ার অভ্যাসও হারিয়ে যেতে পারে। ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লরি বারিলও একই মত পোষণ করেছেন। তার মতে, সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে পুরস্কার বন্ধ হওয়ার পরও মানুষ পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে পারছে কি না তার ওপর।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আচরণগত মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আইভো ভ্লায়েভ এই অর্থকে বই পড়ার মজুরি হিসেবে না দেখে একে একটি ‘ট্রিগার’ বা শুরু করার মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্যমতে, পড়ার সময় নথিভুক্ত করা এবং নিজের অগ্রগতি অনুসরণ করার বিষয়টি লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে। এছাড়া এই ‘গ্যামিফিকেশন’ বা খেলাধুলার মতো পুরস্কারভিত্তিক কাঠামো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যারা আগে বই পড়তেন কিন্তু বর্তমানে অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগটি বেশ কার্যকর হতে পারে। এছাড়া যারা নতুন করে বই পড়তে শুরু করতে চাইছেন, তাদের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক ছোট পুরস্কার প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে। ব্রিটেনেও বই পড়ায় উৎসাহ দিতে বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট ও ব্যাজ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে মূল উদ্দেশ্য হলো অর্জনের অনুভূতি তৈরি করা।

সরকারের এই আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছু মৌলিক প্রশ্ন উঠলেও অধ্যাপক ক্যাটি মিলকম্যান একে শিক্ষার অন্যান্য খাতের ভর্তুকির সাথে তুলনা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা যেমন অর্থ, সার্টিফিকেট বা পয়েন্টের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে সিঙ্গাপুর সরকারের নতুন আর্থিক প্রণোদনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৯। মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। মোবাইল ফোনে দীর্ঘসময় ব্যয় করার কুঅভ্যাস কমিয়ে বইমুখী করতে সরকারি একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বই পড়ার সময় নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চলতি মাস থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে একজন পাঠককে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে হবে। একজন অংশগ্রহণকারী দৈনিক সর্বোচ্চ একটি পড়ার সেশন নথিভুক্ত করতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী, এভাবে ৫০টি সেশন সম্পন্ন করলে পাঠক ১ সিঙ্গাপুর ডলার পাবেন। যদিও এই অর্থের পরিমাণ সামান্য, তবুও মনোবিজ্ঞানী ও আচরণবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ও ‘দ্য অ্যাংজাস জেনারেশন’ বইয়ের লেখক জনাথন হেইডট উল্লেখ করেছেন, শিশু-কিশোরদের আচরণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পুরস্কার কার্যকর হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বই পড়ার আনন্দ যদি স্বতঃস্ফূর্ত না হয়, তবে অর্থ প্রদানের কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেলে পড়ার অভ্যাসও হারিয়ে যেতে পারে। ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লরি বারিলও একই মত পোষণ করেছেন। তার মতে, সিঙ্গাপুরের এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে পুরস্কার বন্ধ হওয়ার পরও মানুষ পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে পারছে কি না তার ওপর।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আচরণগত মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক আইভো ভ্লায়েভ এই অর্থকে বই পড়ার মজুরি হিসেবে না দেখে একে একটি ‘ট্রিগার’ বা শুরু করার মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্যমতে, পড়ার সময় নথিভুক্ত করা এবং নিজের অগ্রগতি অনুসরণ করার বিষয়টি লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করে। এছাড়া এই ‘গ্যামিফিকেশন’ বা খেলাধুলার মতো পুরস্কারভিত্তিক কাঠামো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যারা আগে বই পড়তেন কিন্তু বর্তমানে অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছেন, তাদের জন্য এই উদ্যোগটি বেশ কার্যকর হতে পারে। এছাড়া যারা নতুন করে বই পড়তে শুরু করতে চাইছেন, তাদের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক ছোট পুরস্কার প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে। ব্রিটেনেও বই পড়ায় উৎসাহ দিতে বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেট ও ব্যাজ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে মূল উদ্দেশ্য হলো অর্জনের অনুভূতি তৈরি করা।

সরকারের এই আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছু মৌলিক প্রশ্ন উঠলেও অধ্যাপক ক্যাটি মিলকম্যান একে শিক্ষার অন্যান্য খাতের ভর্তুকির সাথে তুলনা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা যেমন অর্থ, সার্টিফিকেট বা পয়েন্টের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব।