লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম। পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন সাতটি শর্ত তুলে ধরেছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে, তবে এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না।

ইরানের পক্ষ থেকে শর্তগুলোর আনুষ্ঠানিক তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ২. ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ৩. ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ৪. বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, ৫. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো, ৬. যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ৭. ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করা।

এদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

উভয় দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন মধ্যস্থতাকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন। অন্যদিকে ইরানও সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তারা ব্যাপক পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে এই সংঘাত লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছড়িয়ে পড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৭ শর্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২১ পিএম। পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন সাতটি শর্ত তুলে ধরেছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে, তবে এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না।

ইরানের পক্ষ থেকে শর্তগুলোর আনুষ্ঠানিক তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সংঘাত সম্পূর্ণ বন্ধ করা, ২. ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ৩. ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ৪. বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা, ৫. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমানো, ৬. যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ৭. ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করা।

এদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

উভয় দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন মধ্যস্থতাকারীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন। অন্যদিকে ইরানও সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তারা ব্যাপক পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে এই সংঘাত লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছড়িয়ে পড়ে।