লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা ও গার্ড অব অনারে আখতার হুসেনকে বিদায়

কবি ও শিশু সাহিত্যিক আখতার হুসেনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শত শত মানুষ সমবেত হন। সকাল ১০টায় তার মরদেহ শহীদ মিনারে আনার পর বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আখতার হুসেনের ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন জানান, তার বাবা অত্যন্ত মানবিক মানুষ ছিলেন, যিনি সবসময় মানুষের ভালো চাইতেন। তিনি শিল্পীদের প্রতি তার বাবার গভীর মমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অসুস্থতার সময় সহকর্মী শিল্পীদের দৈন্যদশা দেখে তিনি ব্যথিত হতেন এবং শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গিয়েছিলেন। বেইলি রোড থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা তাসলিমা আকতার বলেন, সাহিত্য, রাজনীতি ও সংগীতে আখতার হুসেনের অবদান তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা রাজিব হাসান তাকে নিজের রাজনৈতিক গুরু হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যেকোনো দ্বিধায় তিনি আখতার হুসেনের দিকনির্দেশনা নিতেন।

শহীদ মিনারে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও ছাত্র ইউনিয়নের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার হুসেনকে পুলিশি গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভোগার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আখতার হুসেন মৃত্যুবরণ করেন। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী ও অনুবাদ লিখেছেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ তার বড় অবদান রয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ‘খেলাঘর’-এর সংগঠক হিসেবেও তিনি দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আখতার হুসেনের মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোল

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা ও গার্ড অব অনারে আখতার হুসেনকে বিদায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কবি ও শিশু সাহিত্যিক আখতার হুসেনকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শত শত মানুষ সমবেত হন। সকাল ১০টায় তার মরদেহ শহীদ মিনারে আনার পর বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আখতার হুসেনের ছোট ছেলে প্রমিত হুসেন জানান, তার বাবা অত্যন্ত মানবিক মানুষ ছিলেন, যিনি সবসময় মানুষের ভালো চাইতেন। তিনি শিল্পীদের প্রতি তার বাবার গভীর মমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, অসুস্থতার সময় সহকর্মী শিল্পীদের দৈন্যদশা দেখে তিনি ব্যথিত হতেন এবং শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গিয়েছিলেন। বেইলি রোড থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা তাসলিমা আকতার বলেন, সাহিত্য, রাজনীতি ও সংগীতে আখতার হুসেনের অবদান তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা রাজিব হাসান তাকে নিজের রাজনৈতিক গুরু হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যেকোনো দ্বিধায় তিনি আখতার হুসেনের দিকনির্দেশনা নিতেন।

শহীদ মিনারে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও ছাত্র ইউনিয়নের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার হুসেনকে পুলিশি গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মরদেহ সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ভোগার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আখতার হুসেন মৃত্যুবরণ করেন। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী ও অনুবাদ লিখেছেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ তার বড় অবদান রয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ‘খেলাঘর’-এর সংগঠক হিসেবেও তিনি দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আখতার হুসেনের মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। সেখানে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোল