লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতীম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন

কুমিল্লার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আদেশে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ। এর আগে মামলাটি তদন্ত করছিলেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান।

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাওয়া আদেশের পর তিনি নথিপত্র হাতে পেলেই কাজ শুরু করবেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার চেষ্টা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিন আসামি ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে একটি আইফোন নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। ওই দিনই তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা। সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের সূত্র ধরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং সন্দেহভাজন মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। গত ২০ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই অপ্রতীমকে মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আসামি তুহিন ও সিয়াম বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০০ বছর আগের কাবিননামায় কনের তিন শর্ত, সাক্ষী জাতীয় জাদুঘর

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতীম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার বহুল আলোচিত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পরিবর্তন করা হয়েছে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের আদেশে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ। এর আগে মামলাটি তদন্ত করছিলেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান।

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাওয়া আদেশের পর তিনি নথিপত্র হাতে পেলেই কাজ শুরু করবেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করার চেষ্টা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিন আসামি ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে একটি আইফোন নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। ওই দিনই তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন তার বাবা। সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের সূত্র ধরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং সন্দেহভাজন মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। গত ২০ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই অপ্রতীমকে মাথায় বাঁশ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আসামি তুহিন ও সিয়াম বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।