লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা থেকে ৫০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের করা বিভিন্ন মামলা থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম একে একে বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৩০। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-ক ধারার প্রয়োগ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে এসব মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মিললে এই ধারার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে চট্টগ্রামে এই ধারার ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে সব সময় সমানভাবে কাজ হচ্ছে না। অর্থ ও প্রভাবের কারণে কিছু আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির উপদেষ্টা ও বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহেদুল হক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় বাকলিয়া ও খুলশী থানায় দায়ের করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে তদন্তে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ার অজুহাতে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছেন বোয়ালখালীর আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক, যাকে বাকলিয়া থানার একটি মামলা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিএমপির ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রইছ উদ্দিন জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তারা মতামত দিয়ে থাকেন। তিনি দাবি করেন, তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, এ-সংক্রান্ত তথ্য ক্রাইম বিভাগের কাছেই সংরক্ষিত আছে।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কমিশনারের দপ্তর থেকে ডিসি ক্রাইমের কাছে ফাইল আসার পর সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি ও থানার ওসির কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের ‘ইন্টারেস্ট’ রয়েছে বলেও কর্মকর্তাদের জানানো হয়। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, কমিশনার নিজে হয়তো এসব বিষয়ে অবহিত নন, বরং তার নাম ব্যবহার করে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান এই ঘটনাকে ‘মামলা-বাণিজ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা যদি এভাবে মামলা থেকে বাদ পড়েন, তবে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তদন্ত কর্মকর্তাদের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।

২৪ ঘণ্টায় হামে ৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১২২১ রোগী

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা থেকে ৫০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের করা বিভিন্ন মামলা থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম একে একে বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৩০। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-ক ধারার প্রয়োগ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে এসব মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মিললে এই ধারার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে চট্টগ্রামে এই ধারার ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে সব সময় সমানভাবে কাজ হচ্ছে না। অর্থ ও প্রভাবের কারণে কিছু আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির উপদেষ্টা ও বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহেদুল হক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় বাকলিয়া ও খুলশী থানায় দায়ের করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে তদন্তে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ার অজুহাতে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। একই তালিকায় রয়েছেন বোয়ালখালীর আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক, যাকে বাকলিয়া থানার একটি মামলা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিএমপির ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) রইছ উদ্দিন জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তারা মতামত দিয়ে থাকেন। তিনি দাবি করেন, তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জনকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, এ-সংক্রান্ত তথ্য ক্রাইম বিভাগের কাছেই সংরক্ষিত আছে।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কমিশনারের দপ্তর থেকে ডিসি ক্রাইমের কাছে ফাইল আসার পর সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসি ও থানার ওসির কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনারের ‘ইন্টারেস্ট’ রয়েছে বলেও কর্মকর্তাদের জানানো হয়। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, কমিশনার নিজে হয়তো এসব বিষয়ে অবহিত নন, বরং তার নাম ব্যবহার করে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান এই ঘটনাকে ‘মামলা-বাণিজ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা যদি এভাবে মামলা থেকে বাদ পড়েন, তবে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তদন্ত কর্মকর্তাদের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।