লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষে বাম্পার ফলন

সিরাজগঞ্জ জেলায় এবার বিভিন্ন জাতের আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগমনের সাথে সাথে জেলার বিভিন্ন স্থানে আখ মাড়াই ও গুড় তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। নতুন গুড় ইতিমধ্যে স্থানীয় হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাষকৃত আখের জাতগুলোর মধ্যে আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি ও বোন উল্লেখযোগ্য। উঁচু ও দোআঁশ জমি আখ চাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় চরাঞ্চলসহ বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় আখের আবাদ বেশি হয়েছে। কৃষকরা কয়েক মাস আগে আখের ডাঁট বা টুকরা রোপণ করে এই ফলন পেয়েছেন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি মোতা থেকে পুনরায় আখ গজানোর ফলে কম খরচে অধিক লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা কৃষকদের এই চাষাবাদে উৎসাহিত করছে।

বাজারে নতুন গুড়ের চাহিদা থাকলেও কিছু অসাধু কৃষকের বিরুদ্ধে আটা, চিনি ও সোডা মিশিয়ে গুড় তৈরির অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আটা ও চিনি মেশানোকে তারা ভেজাল বলে মনে করেন না। বর্তমানে প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গুড় ১০০ থেকে ১২০ টাকায় এবং খাঁটি গুড় প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক প্রতি বিঘা জমির আখ ক্ষেতসহ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে মেশিনে মাড়াই করা আখের রস প্রতি গ্লাস ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যমুনা নদীর তীরবর্তী পারপাঁচিল গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন জানান, তারা এবার ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন এবং এর বেশিরভাগই মোতা থেকে উৎপাদিত। ভালো দাম পাওয়ায় তারা লাভের আশা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহমেদ জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পুরো শীত মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টঙ্গীর ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী

সিরাজগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষে বাম্পার ফলন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জ জেলায় এবার বিভিন্ন জাতের আখ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। শীতের আগমনের সাথে সাথে জেলার বিভিন্ন স্থানে আখ মাড়াই ও গুড় তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। নতুন গুড় ইতিমধ্যে স্থানীয় হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চাষকৃত আখের জাতগুলোর মধ্যে আইএসডি ৪১, ৪২, ৪৩, ইরি ও বোন উল্লেখযোগ্য। উঁচু ও দোআঁশ জমি আখ চাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় চরাঞ্চলসহ বেলকুচি, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় আখের আবাদ বেশি হয়েছে। কৃষকরা কয়েক মাস আগে আখের ডাঁট বা টুকরা রোপণ করে এই ফলন পেয়েছেন। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি মোতা থেকে পুনরায় আখ গজানোর ফলে কম খরচে অধিক লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা কৃষকদের এই চাষাবাদে উৎসাহিত করছে।

বাজারে নতুন গুড়ের চাহিদা থাকলেও কিছু অসাধু কৃষকের বিরুদ্ধে আটা, চিনি ও সোডা মিশিয়ে গুড় তৈরির অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আটা ও চিনি মেশানোকে তারা ভেজাল বলে মনে করেন না। বর্তমানে প্রতি ডিমা (৩ পোয়া) গুড় ১০০ থেকে ১২০ টাকায় এবং খাঁটি গুড় প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক প্রতি বিঘা জমির আখ ক্ষেতসহ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে মেশিনে মাড়াই করা আখের রস প্রতি গ্লাস ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যমুনা নদীর তীরবর্তী পারপাঁচিল গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন জানান, তারা এবার ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন এবং এর বেশিরভাগই মোতা থেকে উৎপাদিত। ভালো দাম পাওয়ায় তারা লাভের আশা করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহমেদ জানিয়েছেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পুরো শীত মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।