লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাসপোর্ট না পাওয়ায় দেশে ফিরতে পারছেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। দুই বছরেরও বেশি সময় আগে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তিনি কোনো সাড়া পাননি। নিজের এই অনিশ্চিত ও আশ্রয়হীন অবস্থাকে তিনি 'ফ্লোটিং ম্যান' বা ভাসমান মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একজন নাগরিকের জন্য নিজের দেশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে ফিরে আসার পথ বন্ধ থাকা গভীর অস্তিত্বগত সংকটের নামান্তর। এস কে সিনহার এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা ও নাগরিকের অধিকারের প্রশ্নটি সামনে এসেছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে দেশে দুর্নীতির মামলা ও দণ্ডাদেশ রয়েছে, যা তিনি সাজানো বলে দাবি করেন, কিন্তু সেই বিচারিক অবস্থানের চেয়েও একজন নাগরিকের নিজ দেশে ফেরার অধিকার সাংবিধানিক ও আইনগত দিক থেকে স্বতন্ত্র।

প্রথম আলোর ১৩ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন এস কে সিনহা। টরন্টোতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে বারবার যোগাযোগ করেও তিনি কোনো উত্তর পাননি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ দেশে অবাধে চলাফেরা ও পুনঃপ্রবেশের অধিকার রয়েছে। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলেও তাঁর দেশে ফেরার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয় না। পাসপোর্ট আইন, ১৯৭৩-এর ৬(১)(ঙ) ধারায় কেবল বিচারাধীন ফৌজদারি কার্যক্রমে হাজিরা এড়ানোর আশঙ্কায় পাসপোর্ট প্রত্যাখ্যানের বিধান থাকলেও, বিদেশে অবস্থানরত কোনো নাগরিক যখন দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান, তখন তাকে পাসপোর্ট না দেওয়ার যুক্তিটি আইনগতভাবে স্পষ্ট নয়।

রাষ্ট্রের উচিত নয় প্রশাসনিক নীরবতার মাধ্যমে একজন নাগরিককে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা। পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ দলিল মাত্র, এটি ইস্যু করা মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি বা দণ্ডাদেশ বাতিল নয়। রাষ্ট্র যদি বিচার নিশ্চিত করতে চায়, তবে তা আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় করা সম্ভব। এস কে সিনহার পাসপোর্টের আবেদন বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে রাষ্ট্রের জবাবদিহি কাম্য। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত সিদ্ধান্ত চাইতে পারেন, আইনগত নোটিশ দিতে পারেন অথবা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট আবেদন করার অধিকার রাখেন।

একজন নাগরিকের আবেদন দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন থাকা প্রশাসনিক ন্যায্যতা ও জবাবদিহির পরিপন্থী। রাষ্ট্রের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন প্রত্যাশিত: আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে কি না, দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন থাকার কারণ কী, পাসপোর্ট প্রত্যাখ্যানের কোনো নির্দিষ্ট আইনগত আদেশ আছে কি না, আইনগত বাধার প্রকৃতি কী এবং কেন যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না।

রাষ্ট্রের উচিত পাসপোর্ট ইস্যু করা না গেলে অন্তত ট্রাভেল পারমিট বা দেশে ফেরার মতো অস্থায়ী ভ্রমণ দলিল প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া। নাগরিকের অধিকার রাষ্ট্রের দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় হতে পারে না, বরং আইনের শাসনের রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস: গুরুত্ব পাচ্ছে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি

পাসপোর্ট না পাওয়ায় দেশে ফিরতে পারছেন না সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। দুই বছরেরও বেশি সময় আগে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও তিনি কোনো সাড়া পাননি। নিজের এই অনিশ্চিত ও আশ্রয়হীন অবস্থাকে তিনি 'ফ্লোটিং ম্যান' বা ভাসমান মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একজন নাগরিকের জন্য নিজের দেশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে ফিরে আসার পথ বন্ধ থাকা গভীর অস্তিত্বগত সংকটের নামান্তর। এস কে সিনহার এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা ও নাগরিকের অধিকারের প্রশ্নটি সামনে এসেছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে দেশে দুর্নীতির মামলা ও দণ্ডাদেশ রয়েছে, যা তিনি সাজানো বলে দাবি করেন, কিন্তু সেই বিচারিক অবস্থানের চেয়েও একজন নাগরিকের নিজ দেশে ফেরার অধিকার সাংবিধানিক ও আইনগত দিক থেকে স্বতন্ত্র।

প্রথম আলোর ১৩ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন এস কে সিনহা। টরন্টোতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে বারবার যোগাযোগ করেও তিনি কোনো উত্তর পাননি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনগত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের নিজ দেশে অবাধে চলাফেরা ও পুনঃপ্রবেশের অধিকার রয়েছে। কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলেও তাঁর দেশে ফেরার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয় না। পাসপোর্ট আইন, ১৯৭৩-এর ৬(১)(ঙ) ধারায় কেবল বিচারাধীন ফৌজদারি কার্যক্রমে হাজিরা এড়ানোর আশঙ্কায় পাসপোর্ট প্রত্যাখ্যানের বিধান থাকলেও, বিদেশে অবস্থানরত কোনো নাগরিক যখন দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান, তখন তাকে পাসপোর্ট না দেওয়ার যুক্তিটি আইনগতভাবে স্পষ্ট নয়।

রাষ্ট্রের উচিত নয় প্রশাসনিক নীরবতার মাধ্যমে একজন নাগরিককে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা। পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ দলিল মাত্র, এটি ইস্যু করা মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি বা দণ্ডাদেশ বাতিল নয়। রাষ্ট্র যদি বিচার নিশ্চিত করতে চায়, তবে তা আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় করা সম্ভব। এস কে সিনহার পাসপোর্টের আবেদন বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা নিয়ে রাষ্ট্রের জবাবদিহি কাম্য। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত সিদ্ধান্ত চাইতে পারেন, আইনগত নোটিশ দিতে পারেন অথবা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট আবেদন করার অধিকার রাখেন।

একজন নাগরিকের আবেদন দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন থাকা প্রশাসনিক ন্যায্যতা ও জবাবদিহির পরিপন্থী। রাষ্ট্রের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন প্রত্যাশিত: আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে কি না, দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন থাকার কারণ কী, পাসপোর্ট প্রত্যাখ্যানের কোনো নির্দিষ্ট আইনগত আদেশ আছে কি না, আইনগত বাধার প্রকৃতি কী এবং কেন যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না।

রাষ্ট্রের উচিত পাসপোর্ট ইস্যু করা না গেলে অন্তত ট্রাভেল পারমিট বা দেশে ফেরার মতো অস্থায়ী ভ্রমণ দলিল প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া। নাগরিকের অধিকার রাষ্ট্রের দয়া বা অনুগ্রহের বিষয় হতে পারে না, বরং আইনের শাসনের রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার রক্ষা করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।