লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান, ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু বিভাজন নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। তিনি সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমাদের সবার মূল পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। এই দেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার সুবাদে আমাদের এই পরিচয়ই মুখ্য। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, এসব আন্দোলনে মানুষের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। তখন কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করেননি।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, অনেকে শহীদ হয়েছেন, কিন্তু সেদিন কেউ ধর্ম দেখেননি। একইভাবে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না। তিনি বলেন, নাগরিকের সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু হিসেবে বিচার করা উচিত নয়। নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে লন্ডনে থাকার সময় তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন না। তাই নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে মানুষ শান্তিতে ও মিলেমিশে থাকবে। কাঙ্ক্ষিত এই বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ: মার্কো রুবিও

নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান, ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘু বিভাজন নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। তিনি সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমাদের সবার মূল পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। এই দেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠার সুবাদে আমাদের এই পরিচয়ই মুখ্য। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, এসব আন্দোলনে মানুষের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা। তখন কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করেননি।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, অনেকে শহীদ হয়েছেন, কিন্তু সেদিন কেউ ধর্ম দেখেননি। একইভাবে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না। তিনি বলেন, নাগরিকের সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু হিসেবে বিচার করা উচিত নয়। নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে লন্ডনে থাকার সময় তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন না। তাই নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে মানুষ শান্তিতে ও মিলেমিশে থাকবে। কাঙ্ক্ষিত এই বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।