লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি দপ্তরে এক লাখ অস্থায়ী নিয়োগ আটকে গেছে, বিপাকে মন্ত্রণালয়

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের প্রায় এক লাখ অস্থায়ী পদে নিয়োগের প্রস্তাব বর্তমানে ঝুলে গেছে। মূলত ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’ সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই নীতিমালা জারি করা হয়, যার ফলে মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো এখন আর আগের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারছে না। চিঠিতে বলা হয়, সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এ আউটসোর্সিংকে ভৌত সেবা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়ার কোনো বিধান না থাকায় আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি ক্রয় বিধিমালা বা পিপিআরে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছে না।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব আসিব আহসান জানিয়েছেন, চলমান দরপত্রের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। নীতিমালার অস্পষ্টতার কারণে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রায় ২০ হাজার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীন প্রায় ৫ হাজারসহ রেলপথ, সমাজকল্যাণ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী পদে নিয়োগ আটকে আছে। এসব পদের মধ্যে হাসপাতালের সুইপার, ল্যাব সহকারী, ট্রলিম্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো জরুরি সেবামূলক পদ রয়েছে।

এই অচলাবস্থা নিরসনে অর্থ বিভাগ বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ বা বিপিপিএকে চিঠি দিয়ে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে বিপিপিএ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সরাসরি ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তির সুযোগ তৈরি হলে আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংস্থাটি অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে।

আউটসোর্সিং নিয়ে বর্তমানে দুই ধরনের মত প্রচলিত রয়েছে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগের সময় বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয় এবং প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ কেটে রাখা হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ আউটসোর্সিং ম্যানপাওয়ার প্রোভাইডার সোসাইটির সভাপতি আবু তালেব মনে করেন, সরকারিভাবে নিয়োগ দিলে কাজে বিশৃঙ্খলা বাড়বে এবং দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রশিক্ষিত ও নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা নেই। বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন খরচ কমাতে ২০০৯ সাল থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরি সরকারিভাবে নিয়োগ না দিয়ে অস্থায়ী পদে নিয়োগ শুরু হয়। ২০০৮ সালে প্রথম আউটসোর্সিং নীতিমালা প্রণয়নের সময় সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল পেনশন ও ভাতা বাবদ ব্যয় সাশ্রয় করা, যা এখন নতুন নীতিমালার কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এরপর ২০১৮ ও ২০২৫ সালে আরও দুবার এ নীতিমালা সংশোধন হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালুকায় মাদক মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার ৩ পুলিশ

সরকারি দপ্তরে এক লাখ অস্থায়ী নিয়োগ আটকে গেছে, বিপাকে মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের প্রায় এক লাখ অস্থায়ী পদে নিয়োগের প্রস্তাব বর্তমানে ঝুলে গেছে। মূলত ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’ সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই নীতিমালা জারি করা হয়, যার ফলে মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো এখন আর আগের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারছে না। চিঠিতে বলা হয়, সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এ আউটসোর্সিংকে ভৌত সেবা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়ার কোনো বিধান না থাকায় আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডে সরাসরি অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি ক্রয় বিধিমালা বা পিপিআরে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছে না।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব আসিব আহসান জানিয়েছেন, চলমান দরপত্রের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। নীতিমালার অস্পষ্টতার কারণে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রায় ২০ হাজার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীন প্রায় ৫ হাজারসহ রেলপথ, সমাজকল্যাণ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অস্থায়ী পদে নিয়োগ আটকে আছে। এসব পদের মধ্যে হাসপাতালের সুইপার, ল্যাব সহকারী, ট্রলিম্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো জরুরি সেবামূলক পদ রয়েছে।

এই অচলাবস্থা নিরসনে অর্থ বিভাগ বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ বা বিপিপিএকে চিঠি দিয়ে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে বিপিপিএ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সরাসরি ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তির সুযোগ তৈরি হলে আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংস্থাটি অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে।

আউটসোর্সিং নিয়ে বর্তমানে দুই ধরনের মত প্রচলিত রয়েছে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগের সময় বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয় এবং প্রতি মাসে বেতনের একটি অংশ কেটে রাখা হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ আউটসোর্সিং ম্যানপাওয়ার প্রোভাইডার সোসাইটির সভাপতি আবু তালেব মনে করেন, সরকারিভাবে নিয়োগ দিলে কাজে বিশৃঙ্খলা বাড়বে এবং দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রশিক্ষিত ও নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা নেই। বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন খরচ কমাতে ২০০৯ সাল থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরি সরকারিভাবে নিয়োগ না দিয়ে অস্থায়ী পদে নিয়োগ শুরু হয়। ২০০৮ সালে প্রথম আউটসোর্সিং নীতিমালা প্রণয়নের সময় সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল পেনশন ও ভাতা বাবদ ব্যয় সাশ্রয় করা, যা এখন নতুন নীতিমালার কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এরপর ২০১৮ ও ২০২৫ সালে আরও দুবার এ নীতিমালা সংশোধন হয়।