লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিজ্ঞতা অর্জনে ১৫ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তুরস্ক সফর নভেম্বরে

প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে অভিজ্ঞতা ও সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে তুরস্ক সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের ১৫ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। আগামী ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই সফরের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তুরস্ক সরকার। আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে।

প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। দলে থাকা অন্য দুই সচিব হলেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সফরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর সফরের প্রস্তুতিমূলক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আলোচনার প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তুরস্কের সফল খাতগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ২০২২ সালে ড্রোন সংগ্রহ নিয়ে তুরস্কের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী। বিশেষ করে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ভূমিকম্প, ভূমিধস ও বজ্রপাত মোকাবিলায় তুরস্কের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তুরস্কের দীর্ঘদিনের সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং ঢাকাতে তুরস্কের অর্থায়নে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও প্রতিনিধিদলের পরিকল্পনায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন গতি পেয়েছে। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে দুই দেশই কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর আগে গত জুলাইয়ে তুরস্কে পাঁচ দিনের সরকারি সফর করেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং গত ৫ ও ৬ জুন বাংলাদেশ সফর করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এছাড়া আগামী বছর ২০ ও ২১ জানুয়ারিতে ঢাকায় বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) সভা হওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রস্তুতি হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অভিজ্ঞতা অর্জনে ১৫ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তুরস্ক সফর নভেম্বরে

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে অভিজ্ঞতা ও সহায়তা লাভের উদ্দেশ্যে তুরস্ক সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের ১৫ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল। আগামী ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই সফরের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তুরস্ক সরকার। আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনাতোলিয়ায় কপ৩১-এর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হবে।

প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেবেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। দলে থাকা অন্য দুই সচিব হলেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সফরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর সফরের প্রস্তুতিমূলক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আলোচনার প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তুরস্কের সফল খাতগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ২০২২ সালে ড্রোন সংগ্রহ নিয়ে তুরস্কের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী। বিশেষ করে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ভূমিকম্প, ভূমিধস ও বজ্রপাত মোকাবিলায় তুরস্কের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তুরস্কের দীর্ঘদিনের সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং ঢাকাতে তুরস্কের অর্থায়নে একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও প্রতিনিধিদলের পরিকল্পনায় রয়েছে।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে এক নতুন গতি পেয়েছে। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বর্তমানে দুই দেশই কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর আগে গত জুলাইয়ে তুরস্কে পাঁচ দিনের সরকারি সফর করেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং গত ৫ ও ৬ জুন বাংলাদেশ সফর করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এছাড়া আগামী বছর ২০ ও ২১ জানুয়ারিতে ঢাকায় বাংলাদেশ-তুরস্ক যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) সভা হওয়ার কথা রয়েছে, যার প্রস্তুতি হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে।