লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনএপিডি ডিজির বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ক্লাস ও ভাতার অভিযোগ

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) মহাপরিচালক (ডিজি) খায়রুল কবীর মেননের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ কোর্সে নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া এবং নিয়ম অনুযায়ী সম্মানী ভাতার অংশ জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এ প্রতিষ্ঠানে সচিব বা প্রথম গ্রেড পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা দুই মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সে সর্বোচ্চ ১০টি ক্লাস নেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি নির্ধারিত সীমার তিন গুণ পর্যন্ত ক্লাস নিয়েছেন। এতে বাইরের রিসোর্স পারসনদের সুযোগ যেমন সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি প্রশিক্ষণের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ একাডেমি সংশ্লিষ্টদের।

একাডেমির নিয়মনীতি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে এনএপিডির বোর্ড অব গভর্নরসের পঞ্চম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একাডেমির কোনো সদস্য ১০টির বেশি ক্লাস নিতে পারবেন না। এছাড়া প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া সম্মানীর ২০ শতাংশ অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখায় জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, যা একাডেমির নিজস্ব আয় হিসেবে গণ্য করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন তহবিলে যুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, এই বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান থাকেন পরিকল্পনামন্ত্রী এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া সম্প্রতি গত ৯ জুলাই সেশন বণ্টনসংক্রান্ত একাডেমির পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রথম সভায়ও স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার জন্য সর্বোচ্চ ১০টি সেশন নির্ধারণের কথা বলা হয়।

গত ১৭ জুন এনএপিডির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন খায়রুল কবীর মেনন। তিনি যোগ দেওয়ার পর ১২ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৩৫তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে একা ৩০টি ক্লাস নেন। এই কোর্সে প্রতিটি ক্লাসের সম্মানী ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এর পরপরই ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত স্বাস্থ্য ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের ১৩৮তম ও ১৩৯তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে তিনি ১৬টি করে মোট ৩২টি ক্লাস পরিচালনা করেন। ফলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে তিনটি কোর্সে তাঁর সর্বোচ্চ ৩০টি ক্লাস নেওয়ার কথা, সেখানে তিনি একা ৬২টি ক্লাস নিয়েছেন। এর বাইরে সন্ধ্যাকালীন স্বল্পমেয়াদি কোর্স ও অন্যান্য সেশন মিলিয়ে তাঁর পরিচালনা করা ক্লাস ও কার্যক্রমের সংখ্যা অন্তত ৭৫টিতে পৌঁছেছে।

ক্লাসের বাইরেও একাডেমির একাধিক সেশন থেকে সম্মানী গ্রহণ করেছেন মহাপরিচালক। এর মধ্যে দুটি সম্প্রসারণ বক্তৃতার (এক্সটেনশন লেকচার) জন্য ৫ হাজার টাকা করে এবং দুটি সাক্ষাৎকারের জন্য ৬ হাজার টাকা করে সম্মানী পান তিনি। এছাড়া ঢাকার বাইরে শিক্ষাসফরে অংশ নেওয়া, সফর-পরবর্তী প্রতিবেদন উপস্থাপনা, বই পর্যালোচনা সভা, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান, কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা এবং উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিপরীতেও সম্মানী ধার্য ছিল। ফলে চার মাসের দায়িত্বকালে প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো থেকে মহাপরিচালক মোট কত টাকা সম্মানী পেয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছে এনএপিডি সূত্র।

মহাপরিচালকের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রশিক্ষণার্থীরাও। ৩৫তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, দুই মাসের কোর্সে মূল সেশনগুলোর বড় অংশ একজন ব্যক্তি নিলে তা দৃষ্টিকটু দেখায় এবং এতে একক মতামত প্রাধান্য পাওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীদের শেখার পরিধি সীমিত হয়ে পড়ে। তবে স্বাস্থ্য ক্যাডারের কয়েকজন নবীন কর্মকর্তা জানান, মহাপরিচালক অপেক্ষাকৃত বেশি ক্লাস নিলেও কোনো নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে কি না তা তাঁদের জানা ছিল না। মহাপরিচালক মূল বিষয় হিসেবে দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি কর্মকর্তাদের আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার, সুশাসন, নেতৃত্ব, তথ্য অধিকার আইন এবং সরকারি কর্মচারী আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন। আগের মহাপরিচালকেরা এত বেশি ক্লাস না নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মানে জোর দিতেন বলে একাডেমি সূত্রে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এনএপিডির মহাপরিচালক খায়রুল কবীর মেনন জানান, মহাপরিচালকের ক্ষেত্রে ১০টি ক্লাসের সীমা মানা বাধ্যতামূলক নয় এবং আগের ডিজিরাও অতিরিক্ত ক্লাস নিয়েছেন। আয়ের ২০ শতাংশ হিসাব শাখায় জমা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা এনএপিডিতে প্রেষণে আসেন। প্রেষণে আসা কর্মকর্তারা বদলি হয়ে চলে গেলে এনএপিডি থেকে কোনো পেনশন পান না, তাই অর্জিত সম্মানী জমা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। একটি ক্লাসের জন্য প্রচুর পড়ালেখা ও প্রস্তুতি নিতে হয় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পরিশ্রমের সম্মানী গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই এবং প্রয়োজনে আগামী বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত নিয়ম সংশোধনের প্রস্তাব পাঠাবেন। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এনএপিডি ১৯৮৪ সালে ঢাকার নীলক্ষেতে নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করে এবং ১৯৮৫ সালে এটিকে ইনস্টিটিউট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশাসনিক প্রশিক্ষণে পাকিস্তান যাচ্ছেন ৩৫ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা

এনএপিডি ডিজির বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ক্লাস ও ভাতার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) মহাপরিচালক (ডিজি) খায়রুল কবীর মেননের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ কোর্সে নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া এবং নিয়ম অনুযায়ী সম্মানী ভাতার অংশ জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এ প্রতিষ্ঠানে সচিব বা প্রথম গ্রেড পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা দুই মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সে সর্বোচ্চ ১০টি ক্লাস নেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি নির্ধারিত সীমার তিন গুণ পর্যন্ত ক্লাস নিয়েছেন। এতে বাইরের রিসোর্স পারসনদের সুযোগ যেমন সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি প্রশিক্ষণের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ একাডেমি সংশ্লিষ্টদের।

একাডেমির নিয়মনীতি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে এনএপিডির বোর্ড অব গভর্নরসের পঞ্চম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে একাডেমির কোনো সদস্য ১০টির বেশি ক্লাস নিতে পারবেন না। এছাড়া প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া সম্মানীর ২০ শতাংশ অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাব শাখায় জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, যা একাডেমির নিজস্ব আয় হিসেবে গণ্য করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন তহবিলে যুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, এই বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান থাকেন পরিকল্পনামন্ত্রী এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া সম্প্রতি গত ৯ জুলাই সেশন বণ্টনসংক্রান্ত একাডেমির পাঁচ সদস্যের কমিটির প্রথম সভায়ও স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার জন্য সর্বোচ্চ ১০টি সেশন নির্ধারণের কথা বলা হয়।

গত ১৭ জুন এনএপিডির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন খায়রুল কবীর মেনন। তিনি যোগ দেওয়ার পর ১২ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৩৫তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে একা ৩০টি ক্লাস নেন। এই কোর্সে প্রতিটি ক্লাসের সম্মানী ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এর পরপরই ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত স্বাস্থ্য ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের ১৩৮তম ও ১৩৯তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে তিনি ১৬টি করে মোট ৩২টি ক্লাস পরিচালনা করেন। ফলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে তিনটি কোর্সে তাঁর সর্বোচ্চ ৩০টি ক্লাস নেওয়ার কথা, সেখানে তিনি একা ৬২টি ক্লাস নিয়েছেন। এর বাইরে সন্ধ্যাকালীন স্বল্পমেয়াদি কোর্স ও অন্যান্য সেশন মিলিয়ে তাঁর পরিচালনা করা ক্লাস ও কার্যক্রমের সংখ্যা অন্তত ৭৫টিতে পৌঁছেছে।

ক্লাসের বাইরেও একাডেমির একাধিক সেশন থেকে সম্মানী গ্রহণ করেছেন মহাপরিচালক। এর মধ্যে দুটি সম্প্রসারণ বক্তৃতার (এক্সটেনশন লেকচার) জন্য ৫ হাজার টাকা করে এবং দুটি সাক্ষাৎকারের জন্য ৬ হাজার টাকা করে সম্মানী পান তিনি। এছাড়া ঢাকার বাইরে শিক্ষাসফরে অংশ নেওয়া, সফর-পরবর্তী প্রতিবেদন উপস্থাপনা, বই পর্যালোচনা সভা, উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান, কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা এবং উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিপরীতেও সম্মানী ধার্য ছিল। ফলে চার মাসের দায়িত্বকালে প্রশিক্ষণ কোর্সগুলো থেকে মহাপরিচালক মোট কত টাকা সম্মানী পেয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন বলে জানিয়েছে এনএপিডি সূত্র।

মহাপরিচালকের এমন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রশিক্ষণার্থীরাও। ৩৫তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, দুই মাসের কোর্সে মূল সেশনগুলোর বড় অংশ একজন ব্যক্তি নিলে তা দৃষ্টিকটু দেখায় এবং এতে একক মতামত প্রাধান্য পাওয়ায় প্রশিক্ষণার্থীদের শেখার পরিধি সীমিত হয়ে পড়ে। তবে স্বাস্থ্য ক্যাডারের কয়েকজন নবীন কর্মকর্তা জানান, মহাপরিচালক অপেক্ষাকৃত বেশি ক্লাস নিলেও কোনো নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে কি না তা তাঁদের জানা ছিল না। মহাপরিচালক মূল বিষয় হিসেবে দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি কর্মকর্তাদের আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার, সুশাসন, নেতৃত্ব, তথ্য অধিকার আইন এবং সরকারি কর্মচারী আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন। আগের মহাপরিচালকেরা এত বেশি ক্লাস না নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মানে জোর দিতেন বলে একাডেমি সূত্রে জানা গেছে।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এনএপিডির মহাপরিচালক খায়রুল কবীর মেনন জানান, মহাপরিচালকের ক্ষেত্রে ১০টি ক্লাসের সীমা মানা বাধ্যতামূলক নয় এবং আগের ডিজিরাও অতিরিক্ত ক্লাস নিয়েছেন। আয়ের ২০ শতাংশ হিসাব শাখায় জমা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা এনএপিডিতে প্রেষণে আসেন। প্রেষণে আসা কর্মকর্তারা বদলি হয়ে চলে গেলে এনএপিডি থেকে কোনো পেনশন পান না, তাই অর্জিত সম্মানী জমা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। একটি ক্লাসের জন্য প্রচুর পড়ালেখা ও প্রস্তুতি নিতে হয় উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পরিশ্রমের সম্মানী গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই এবং প্রয়োজনে আগামী বোর্ড সভায় এ সংক্রান্ত নিয়ম সংশোধনের প্রস্তাব পাঠাবেন। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এনএপিডি ১৯৮৪ সালে ঢাকার নীলক্ষেতে নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করে এবং ১৯৮৫ সালে এটিকে ইনস্টিটিউট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।