লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি আবাসন থেকে অবৈধ ভাড়াটে সরাতে অভিযানে নামছে পরিদপ্তর

সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে নিজে না থেকে অন্যকে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা পার হওয়ার পরও যেসব বাসায় অবৈধ সাবলেট বা ভাড়াটে রয়ে গেছেন, তাঁদের সরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান পরিচালনা করবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। ইতিমধ্যে আবাসন পরিদপ্তরের পাঁচটি তদন্ত দল ঢাকার বিভিন্ন সরকারি বাসাবাড়িতে সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করেছে। কারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসা ছেড়েছেন এবং কারা এখনো রয়ে গেছেন, তার একটি নিখুঁত পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায় থেকে পুরো তালিকা হাতে পাওয়ার পরপরই যেসব সরকারি চাকরিজীবীর বাসায় এখনো সাবলেট বা ভাড়াটে উচ্ছেদ হয়নি, সরাসরি সেখানে অভিযান চালানো হবে। তবে চূড়ান্ত কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। ভাড়াটে না ছাড়ার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে।

এ বিষয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান জানান, গণবিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর অনেকে স্বেচ্ছায় বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এখনো অনেকে অবৈধভাবে থেকে গেছেন বলে তথ্য আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। যেসব বাসায় সাবলেট বা ভাড়াটে রয়ে গেছেন, সে বিষয়ে বাসাদাতাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে এবং পরবর্তীতে 'বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা' অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সরকারি আবাসন পরিদপ্তর থেকে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব ধরনের সাবলেট ও অবৈধ ভাড়াটেদের ঘর ছাড়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কেবল বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীকেই বাসায় বসবাসের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয় এবং নিয়ম অমান্য করলে বরাদ্দ বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এই বিজ্ঞপ্তির পর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই তাড়াহুড়ো করে বাসা ছাড়তে বাধ্য হন। মাত্র এক দিনের নোটিশে বাসা ছাড়ার এমন নিদের্শনায় শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েন এবং ক্ষোভ জানান। মৌখিক চুক্তিতে দুই মাসের নোটিশের শর্ত থাকলেও এক দিনে বাসা ছাড়ার নির্দেশে তাঁরা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। অনেকেই এ ক্ষেত্রে অন্তত এক মাস সময় দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় মোট ২৭টি এলাকায় সরকারি আবাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে আজিমপুর, বেইলি রোড, সার্কিট হাউস রোড, ইস্কাটন, গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, সোবহানবাগ, পলাশী, এলেনবাড়ি, তেজগাঁও লাভ রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও সবুজবাগ, মতিঝিল, টিকাটুলি, মিরপুর-১ পাইকপাড়া, মিরপুর-৬ শিয়ালবাড়ি, মিরপুর-১০ ন্যাম গার্ডেন, শেরেবাংলা নগর এবং আগারগাঁও।

রাজধানীতে সর্বমোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি ফ্ল্যাট বা বাসা রয়েছে। সরকারি ফ্ল্যাটের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে আজিমপুর, যেখানে ৩ হাজার ৪০৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ১ হাজার ৭৩০টি ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিরপুরের পাইকপাড়া। এ ছাড়া মিরপুর-১-এর শিয়ালবাড়িতে ১ হাজার ৯১টি এবং মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে ১ হাজার ১১২টি সরকারি ফ্ল্যাট বিদ্যমান।

বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থার বিভাজনে রয়েছে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস ও ৭৯টি বাংলো। এ ছাড়া গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা ৫৫৮টি, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের ১ হাজার ৮৯০টি, এবং গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর কর্মকর্তাদের জন্য ২ হাজার ৬৩২টি বাসা নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি কেবল গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক ৭৭৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ আছে। অন্যদিকে কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১২ ও ১৩তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭তম গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২ হাজার ৬১টি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুটান-শ্রীলঙ্কা ড্র, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিতে বাংলাদেশ

সরকারি আবাসন থেকে অবৈধ ভাড়াটে সরাতে অভিযানে নামছে পরিদপ্তর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে নিজে না থেকে অন্যকে ভাড়া বা সাবলেট দেওয়ার বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা পার হওয়ার পরও যেসব বাসায় অবৈধ সাবলেট বা ভাড়াটে রয়ে গেছেন, তাঁদের সরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান পরিচালনা করবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। ইতিমধ্যে আবাসন পরিদপ্তরের পাঁচটি তদন্ত দল ঢাকার বিভিন্ন সরকারি বাসাবাড়িতে সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করেছে। কারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসা ছেড়েছেন এবং কারা এখনো রয়ে গেছেন, তার একটি নিখুঁত পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায় থেকে পুরো তালিকা হাতে পাওয়ার পরপরই যেসব সরকারি চাকরিজীবীর বাসায় এখনো সাবলেট বা ভাড়াটে উচ্ছেদ হয়নি, সরাসরি সেখানে অভিযান চালানো হবে। তবে চূড়ান্ত কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। ভাড়াটে না ছাড়ার যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হতে পারে।

এ বিষয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান জানান, গণবিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর অনেকে স্বেচ্ছায় বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এখনো অনেকে অবৈধভাবে থেকে গেছেন বলে তথ্য আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। যেসব বাসায় সাবলেট বা ভাড়াটে রয়ে গেছেন, সে বিষয়ে বাসাদাতাদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে এবং পরবর্তীতে 'বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা' অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সরকারি আবাসন পরিদপ্তর থেকে একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব ধরনের সাবলেট ও অবৈধ ভাড়াটেদের ঘর ছাড়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কেবল বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীকেই বাসায় বসবাসের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয় এবং নিয়ম অমান্য করলে বরাদ্দ বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এই বিজ্ঞপ্তির পর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই তাড়াহুড়ো করে বাসা ছাড়তে বাধ্য হন। মাত্র এক দিনের নোটিশে বাসা ছাড়ার এমন নিদের্শনায় শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েন এবং ক্ষোভ জানান। মৌখিক চুক্তিতে দুই মাসের নোটিশের শর্ত থাকলেও এক দিনে বাসা ছাড়ার নির্দেশে তাঁরা গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। অনেকেই এ ক্ষেত্রে অন্তত এক মাস সময় দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় মোট ২৭টি এলাকায় সরকারি আবাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে আজিমপুর, বেইলি রোড, সার্কিট হাউস রোড, ইস্কাটন, গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, সোবহানবাগ, পলাশী, এলেনবাড়ি, তেজগাঁও লাভ রোড, মালিবাগ, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও সবুজবাগ, মতিঝিল, টিকাটুলি, মিরপুর-১ পাইকপাড়া, মিরপুর-৬ শিয়ালবাড়ি, মিরপুর-১০ ন্যাম গার্ডেন, শেরেবাংলা নগর এবং আগারগাঁও।

রাজধানীতে সর্বমোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি ফ্ল্যাট বা বাসা রয়েছে। সরকারি ফ্ল্যাটের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে আজিমপুর, যেখানে ৩ হাজার ৪০৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ১ হাজার ৭৩০টি ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিরপুরের পাইকপাড়া। এ ছাড়া মিরপুর-১-এর শিয়ালবাড়িতে ১ হাজার ৯১টি এবং মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে ১ হাজার ১১২টি সরকারি ফ্ল্যাট বিদ্যমান।

বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থার বিভাজনে রয়েছে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস ও ৭৯টি বাংলো। এ ছাড়া গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা ৫৫৮টি, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের ১ হাজার ৮৯০টি, এবং গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর কর্মকর্তাদের জন্য ২ হাজার ৬৩২টি বাসা নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি কেবল গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক ৭৭৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ আছে। অন্যদিকে কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১২ ও ১৩তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫তম গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭তম গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২ হাজার ৬১টি সরকারি ফ্ল্যাট রয়েছে।