লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষেত দেখতে গিয়ে আর ফেরা হলো না: ত্রিশালে কৃষক খু/ন

ক্ষেত দেখতে গিয়ে আর ফেরা হলো না: ত্রিশালে কৃষক খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) :

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে মোতালেব হোসেন (৫৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মোতালেব হোসেন ওই এলাকার মৃত সাইফুল্লাহর ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের আগে মোতালেব হোসেন প্রতিদিনের মতো নিজের ধানক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। অনেক সময় পার হয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে পুলিশ খবর পায় যে, একটি ধানক্ষেতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।

খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘাতকের টার্গেট নিয়ে রহস্য

নিহতের ছেলে আলী হোসেন জানান, তার বাবার মরদেহ পাওয়া গেলেও রহস্যজনকভাবে তার সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র অক্ষত রয়েছে। মরদেহের পাশেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পড়ে ছিল। এছাড়া তার কোমড়ে থাকা কাপড়ের থলেতে থাকা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকাও নেয়নি দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেহেতু টাকা বা ফোন চুরি হয়নি, তাই এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তারা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। তবে সাথে থাকা টাকা অক্ষত থাকায় হত্যার কারণ নিয়ে আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি।”

বর্তমান অবস্থা

ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করতে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাসপাড়ার ৫০ ভূমিহীন পরিবারের উচ্ছেদ আপাতত স্থগিত

ক্ষেত দেখতে গিয়ে আর ফেরা হলো না: ত্রিশালে কৃষক খু/ন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ক্ষেত দেখতে গিয়ে আর ফেরা হলো না: ত্রিশালে কৃষক খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) :

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ধানক্ষেত দেখতে গিয়ে মোতালেব হোসেন (৫৫) নামে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মোতালেব হোসেন ওই এলাকার মৃত সাইফুল্লাহর ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের আগে মোতালেব হোসেন প্রতিদিনের মতো নিজের ধানক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। অনেক সময় পার হয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে পুলিশ খবর পায় যে, একটি ধানক্ষেতে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে।

খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘাতকের টার্গেট নিয়ে রহস্য

নিহতের ছেলে আলী হোসেন জানান, তার বাবার মরদেহ পাওয়া গেলেও রহস্যজনকভাবে তার সাথে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র অক্ষত রয়েছে। মরদেহের পাশেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পড়ে ছিল। এছাড়া তার কোমড়ে থাকা কাপড়ের থলেতে থাকা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকাও নেয়নি দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেহেতু টাকা বা ফোন চুরি হয়নি, তাই এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তারা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ধানক্ষেতে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। তবে সাথে থাকা টাকা অক্ষত থাকায় হত্যার কারণ নিয়ে আমরা গভীরভাবে তদন্ত করছি।”

বর্তমান অবস্থা

ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করতে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।