লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | জনি আহম্মেদ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে বিলুপ্তির পথে। নদীর প্রবল স্রোতে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, বেড়িবাঁধ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই পদ্মার ভাঙনে নদীতীরবর্তী মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছেন। ইতোমধ্যে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু হয়ে এই অংশের অনেক বেড়িবাঁধ ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ইয়ার কবিরাজ জানান, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর আগে তাঁর পূর্বপুরুষরা চাকলার চর থেকে এসে এই এলাকায় বসতি গড়েছিলেন। দীর্ঘদিনের সেই পৈতৃক ভিটেমাটিই এখন নদীভাঙনের মুখে। তিনি বলেন, “সব হারিয়ে এখন যে সামান্য জমিতে আছি, সেটুকুই শেষ সম্বল। এটাও যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা আফতাবুল সরদার (৭০) বলেন, “সবই চলে গেছে পানির নিচে। বিক্রি করে দিলে হয়তো কষ্ট কম হতো, কিন্তু এখানে তো চোখের সামনে সব নদীতে চলে যাচ্ছে।”
শুধু আফতাবুল সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেক পরিবার। এলাকাবাসীর দাবি, সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রামই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে জিও ব্যাগ ফেললেও তীব্র স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সেগুলো কার্যকর হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বারবার অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ভাঙন থামানো যায়নি।
এলাকাবাসী জানান, তারা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাননি। তাঁদের অভিযোগ, অনেক নেতা এসে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, তিনি ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ফয়জুল্লাহপুর গ্রামসহ পদ্মাপাড়ের মানুষকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা হোক।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় তিন দিনের সফরে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর

পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

পদ্মার তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | জনি আহম্মেদ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে বিলুপ্তির পথে। নদীর প্রবল স্রোতে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, বেড়িবাঁধ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই পদ্মার ভাঙনে নদীতীরবর্তী মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছেন। ইতোমধ্যে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু হয়ে এই অংশের অনেক বেড়িবাঁধ ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা ইয়ার কবিরাজ জানান, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর আগে তাঁর পূর্বপুরুষরা চাকলার চর থেকে এসে এই এলাকায় বসতি গড়েছিলেন। দীর্ঘদিনের সেই পৈতৃক ভিটেমাটিই এখন নদীভাঙনের মুখে। তিনি বলেন, “সব হারিয়ে এখন যে সামান্য জমিতে আছি, সেটুকুই শেষ সম্বল। এটাও যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা আফতাবুল সরদার (৭০) বলেন, “সবই চলে গেছে পানির নিচে। বিক্রি করে দিলে হয়তো কষ্ট কম হতো, কিন্তু এখানে তো চোখের সামনে সব নদীতে চলে যাচ্ছে।”
শুধু আফতাবুল সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেক পরিবার। এলাকাবাসীর দাবি, সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রামই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে জিও ব্যাগ ফেললেও তীব্র স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সেগুলো কার্যকর হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বারবার অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ভাঙন থামানো যায়নি।
এলাকাবাসী জানান, তারা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাননি। তাঁদের অভিযোগ, অনেক নেতা এসে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, তিনি ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ফয়জুল্লাহপুর গ্রামসহ পদ্মাপাড়ের মানুষকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা হোক।