লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদুল আজহা: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে জমে উঠেছে মাংস কাটার ‘খাইট্টা’র বাজার

ঈদুল আজহা: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে জমে উঠেছে মাংস কাটার ‘খাইট্টা’র বাজার

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই কোরবানির প্রস্তুতি ততই জোরদার হচ্ছে। একদিকে পশুর হাটগুলো জমজমাট, অন্যদিকে কামারপাড়ায় দা-ছুরিতে শাণ দেওয়ার টুংটাং শব্দে মুখরিত চারপাশ। এরই মাঝে কোরবানির মাংস কাটার অপরিহার্য অনুষঙ্গ—কাঠের তৈরি ‘খাইট্টা’ (মাংস কাটার গুঁড়ি) তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

ঐসব এলাকার কার্তিকপুর, বান্দুরা ও রুহিতপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে এবং স’মিলগুলোর (করাত কল) সামনে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের খাইট্টা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে এই কাঠের বাজারগুলো।

টেকসই কাঠের খোঁজে ক্রেতারা

কাঠমিস্ত্রি ও বিক্রেতারা জানান, মাংস কাটার জন্য সাধারণত শক্ত ও আঁশযুক্ত কাঠের খাইট্টা প্রয়োজন হয়, যাতে ভারী দা বা চাপাতির কোপ পড়লেও কাঠ সহজে চটে বা ভেঙে না যায়। এ কারণে এবার ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে:

  • তেঁতুল গাছ (সবচেয়ে টেকসই ও আলাদা কদর)

  • নিম গাছ

  • বাবলা গাছ

  • গাব গাছ

বাজারের দরদাম পরিস্থিতি

ক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার খাইট্টার দাম কিছুটা চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, কাঠ ও গাছের গুঁড়ির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বাজারে বর্তমানে আকারভেদে খাইট্টার দাম নিচে দেওয়া হলো:

খাইট্টার আকার বর্তমান বাজার মূল্য (টাকা)
ছোট আকার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা
মাঝারি আকার ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা
বড় আকার (কসাইদের উপযোগী) ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা

মৌসুমি ব্যবসার ধুম:

বছরের অন্য সময়ে খাইট্টার তেমন চাহিদা না থাকলেও কোরবানির ঈদে এর বাজার থাকে আকাশচুম্বী। তাই অনেক কাঠমিস্ত্রি অন্য সব কাজ বন্ধ রেখে এখন শুধু খাইট্টা বানানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। আবার অনেকে অন্য পেশা ছেড়ে এই ১০-১৫ দিনের জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে খাইট্টা বিক্রি করে বাড়তি দু’পয়সা আয় করে নিচ্ছেন।

আগেভাগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন

বাজারে খাইট্টা কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, কোরবানির পশু জবাইয়ের পর মাংস দ্রুত ও সুন্দরভাবে পিস করার জন্য একটি ভালো খাইট্টা অত্যন্ত জরুরি। তাই পশুর হাট থেকে গরু-ছাগল কেনার পাশাপাশি আগেভাগেই দা-ছুরি এবং কাঠের খাইট্টা কিনে রাখছেন তারা, যাতে ঈদের দিন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠনের ডাক দিলেন নেতানিয়াহু

ঈদুল আজহা: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে জমে উঠেছে মাংস কাটার ‘খাইট্টা’র বাজার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

ঈদুল আজহা: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে জমে উঠেছে মাংস কাটার ‘খাইট্টা’র বাজার

শহীদুল ইসলাম শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই কোরবানির প্রস্তুতি ততই জোরদার হচ্ছে। একদিকে পশুর হাটগুলো জমজমাট, অন্যদিকে কামারপাড়ায় দা-ছুরিতে শাণ দেওয়ার টুংটাং শব্দে মুখরিত চারপাশ। এরই মাঝে কোরবানির মাংস কাটার অপরিহার্য অনুষঙ্গ—কাঠের তৈরি ‘খাইট্টা’ (মাংস কাটার গুঁড়ি) তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

ঐসব এলাকার কার্তিকপুর, বান্দুরা ও রুহিতপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে এবং স’মিলগুলোর (করাত কল) সামনে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের খাইট্টা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে এই কাঠের বাজারগুলো।

টেকসই কাঠের খোঁজে ক্রেতারা

কাঠমিস্ত্রি ও বিক্রেতারা জানান, মাংস কাটার জন্য সাধারণত শক্ত ও আঁশযুক্ত কাঠের খাইট্টা প্রয়োজন হয়, যাতে ভারী দা বা চাপাতির কোপ পড়লেও কাঠ সহজে চটে বা ভেঙে না যায়। এ কারণে এবার ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে:

  • তেঁতুল গাছ (সবচেয়ে টেকসই ও আলাদা কদর)

  • নিম গাছ

  • বাবলা গাছ

  • গাব গাছ

বাজারের দরদাম পরিস্থিতি

ক্রেতাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার খাইট্টার দাম কিছুটা চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, কাঠ ও গাছের গুঁড়ির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। বাজারে বর্তমানে আকারভেদে খাইট্টার দাম নিচে দেওয়া হলো:

খাইট্টার আকার বর্তমান বাজার মূল্য (টাকা)
ছোট আকার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা
মাঝারি আকার ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা
বড় আকার (কসাইদের উপযোগী) ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা

মৌসুমি ব্যবসার ধুম:

বছরের অন্য সময়ে খাইট্টার তেমন চাহিদা না থাকলেও কোরবানির ঈদে এর বাজার থাকে আকাশচুম্বী। তাই অনেক কাঠমিস্ত্রি অন্য সব কাজ বন্ধ রেখে এখন শুধু খাইট্টা বানানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। আবার অনেকে অন্য পেশা ছেড়ে এই ১০-১৫ দিনের জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে খাইট্টা বিক্রি করে বাড়তি দু’পয়সা আয় করে নিচ্ছেন।

আগেভাগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন

বাজারে খাইট্টা কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, কোরবানির পশু জবাইয়ের পর মাংস দ্রুত ও সুন্দরভাবে পিস করার জন্য একটি ভালো খাইট্টা অত্যন্ত জরুরি। তাই পশুর হাট থেকে গরু-ছাগল কেনার পাশাপাশি আগেভাগেই দা-ছুরি এবং কাঠের খাইট্টা কিনে রাখছেন তারা, যাতে ঈদের দিন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।