লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের অন্ধকারে ডুবল পুরো কিউবা

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে (গ্রিনিচ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট) দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দিলে প্রায় পুরো দ্বীপদেশ অন্ধকারে ডুবে যায়। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা দে কিউবা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

চলতি বছর কিউবায় এটি চতুর্থ জাতীয় পর্যায়ের ব্ল্যাকআউটের ঘটনা। এর আগে গত সোমবারও একই ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল। এ ছাড়া মার্চ মাসে দেশটিতে আরও দুটি বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল। কিউবার বিদ্যুৎ অবকাঠামোর একটি বড় অংশ স্নায়ুযুদ্ধের সময়, অর্থাৎ ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে সেই অবকাঠামো এখন মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

চলতি বছর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত কিউবার বিদেশি জ্বালানি তেলের প্রধান উৎসগুলো বন্ধ করে দেন। এর আগে থেকেই কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পর কিউবার জন্য ভেনেজুয়েলার তেল ও আর্থিক সহায়তাও বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে কেবল মার্চ মাসে একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ কিউবায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, কিউবা নিজস্বভাবে দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারে, বাকিটা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানি সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিপর্যয়ের জন্য কিউবার সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন।

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কিউবা সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। চীনের সহায়তায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ১৮ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কিউবা।

বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এসব বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য কিউবার সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন।এদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কিউবা সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল, কমলো মোলিনার শাস্তি

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের অন্ধকারে ডুবল পুরো কিউবা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে (গ্রিনিচ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট) দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দিলে প্রায় পুরো দ্বীপদেশ অন্ধকারে ডুবে যায়। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা দে কিউবা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

চলতি বছর কিউবায় এটি চতুর্থ জাতীয় পর্যায়ের ব্ল্যাকআউটের ঘটনা। এর আগে গত সোমবারও একই ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল। এ ছাড়া মার্চ মাসে দেশটিতে আরও দুটি বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল। কিউবার বিদ্যুৎ অবকাঠামোর একটি বড় অংশ স্নায়ুযুদ্ধের সময়, অর্থাৎ ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে সেই অবকাঠামো এখন মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

চলতি বছর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত কিউবার বিদেশি জ্বালানি তেলের প্রধান উৎসগুলো বন্ধ করে দেন। এর আগে থেকেই কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পর কিউবার জন্য ভেনেজুয়েলার তেল ও আর্থিক সহায়তাও বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে কেবল মার্চ মাসে একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ কিউবায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, কিউবা নিজস্বভাবে দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারে, বাকিটা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানি সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিপর্যয়ের জন্য কিউবার সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন।

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কিউবা সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। চীনের সহায়তায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ১৮ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কিউবা।

বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এসব বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য কিউবার সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন।এদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কিউবা সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে।