লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশে সার সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, সার ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশ পর্যন্ত। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো ইউরিয়া সার, যার একটি বড় অংশ আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হলে তা সরাসরি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে সংকটে ফেলে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ বিঘ্নিত হলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অপুষ্টির ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

তবে এই সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব যদি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সরকারের উচিত এখনই মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া। পাশাপাশি দেশের বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত হওয়া রাষ্ট্রীয় সার কারখানাগুলোর সক্ষমতা দ্রুত ফিরিয়ে আনা এবং সারের একটি কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকদের দোরগোড়ায় সঠিক সময়ে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী বা মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কৃষিতে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার কৌশল নিতে হবে। দেশীয় সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করা অপরিহার্য। বৈশ্বিক এই সংঘাতের প্রভাব এড়াতে সময়োচিত সঠিক সিদ্ধান্তই পারে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চৌগাছা কাঁচাবাজারে প্রস্তাবিত মসজিদের স্থান পরিবর্তনের দাবি ব্যবসায়ীদের

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশে সার সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, সার ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশ পর্যন্ত। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষি খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো ইউরিয়া সার, যার একটি বড় অংশ আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। ফলে ওই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা নৌপথে অচলাবস্থা তৈরি হলে তা সরাসরি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থাকে সংকটে ফেলে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ বিঘ্নিত হলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অপুষ্টির ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

তবে এই সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব যদি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সরকারের উচিত এখনই মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া। পাশাপাশি দেশের বন্ধ বা উৎপাদন ব্যাহত হওয়া রাষ্ট্রীয় সার কারখানাগুলোর সক্ষমতা দ্রুত ফিরিয়ে আনা এবং সারের একটি কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষকদের দোরগোড়ায় সঠিক সময়ে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী বা মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে কৃষিতে আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার কৌশল নিতে হবে। দেশীয় সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করা অপরিহার্য। বৈশ্বিক এই সংঘাতের প্রভাব এড়াতে সময়োচিত সঠিক সিদ্ধান্তই পারে দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখতে।