লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়নাঘরের প্রমাণ লুকাতে যারা দেয়াল তুলেছিল, তাদের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’-এর অন্দরে প্রমাণ লুকাতে যারা বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল তুলেছিল, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত এই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পরিদর্শন অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করার পর এক ধরনের ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে বন্দিশালার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারী দল দেখতে পায় যে, অনেক জায়গা দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ভয়াবহ ২২টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া কক্ষগুলোর নিচে একটি ডেথ সেলও রয়েছে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ। সব মিলিয়ে সেখানে ২৯টি কক্ষ ছিল।

তিনি আরও জানান, ব্যারিস্টার আরমানসহ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও র‍্যাবের এই সেলে বন্দি রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। যারা পরবর্তীতে দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তাদেরও আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীসহ প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওই বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে নির্যাতন ও গুমের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৭২ জন

আয়নাঘরের প্রমাণ লুকাতে যারা দেয়াল তুলেছিল, তাদের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’-এর অন্দরে প্রমাণ লুকাতে যারা বিভিন্ন জায়গায় দেয়াল তুলেছিল, তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত এই গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

পরিদর্শন অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করার পর এক ধরনের ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে বন্দিশালার মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে তদন্তকারী দল দেখতে পায় যে, অনেক জায়গা দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ভয়াবহ ২২টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া কক্ষগুলোর নিচে একটি ডেথ সেলও রয়েছে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ। সব মিলিয়ে সেখানে ২৯টি কক্ষ ছিল।

তিনি আরও জানান, ব্যারিস্টার আরমানসহ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও র‍্যাবের এই সেলে বন্দি রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। যারা পরবর্তীতে দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তাদেরও আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম আশ্বস্ত করে বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীসহ প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওই বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। গত ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এই পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে নির্যাতন ও গুমের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল।