লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সময়োপযোগী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী গঠনে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, পেশাগত যোগ্যতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের গুণাবলী ও শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাংলাদেশ সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন একযোগে কাজ করবে।

বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো সংখ্যার চেয়ে সক্ষমতা এবং একক বাহিনীর পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্যদের স্বীকৃতি প্রদানের ফলে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং আগামীদিনের পেশাদার নেতৃত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।

ক্যান্টনমেন্টের সাথে নিজের স্মৃতিকাতর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি সেনাবাহিনীকে নিজের বৃহত্তর পরিবারের অংশ মনে করেন। অনুষ্ঠানে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন, ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লিস ইউ ব্লিড ইন ওয়ার।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

এদিকে, দেশের চা শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে।

বৈঠকে চা বাগান মালিকরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী চা শিল্পের উন্নয়নে নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বাগান মালিকদের ঋণের দায় সহজীকরণ, স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান এবং চা বাগানে চাষের অনুপযোগী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাট ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি

সেনাবাহিনীতে পদোন্নতিতে মেধা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সময়োপযোগী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী গঠনে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, পেশাগত যোগ্যতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের গুণাবলী ও শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বাংলাদেশ সামুদ্রিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন একযোগে কাজ করবে।

বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো সংখ্যার চেয়ে সক্ষমতা এবং একক বাহিনীর পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্যদের স্বীকৃতি প্রদানের ফলে সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং আগামীদিনের পেশাদার নেতৃত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।

ক্যান্টনমেন্টের সাথে নিজের স্মৃতিকাতর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি সেনাবাহিনীকে নিজের বৃহত্তর পরিবারের অংশ মনে করেন। অনুষ্ঠানে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন, ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লিস ইউ ব্লিড ইন ওয়ার।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

এদিকে, দেশের চা শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে।

বৈঠকে চা বাগান মালিকরা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী চা শিল্পের উন্নয়নে নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বাগান মালিকদের ঋণের দায় সহজীকরণ, স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান এবং চা বাগানে চাষের অনুপযোগী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।