লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ে নারী নির্যাতন কমলেও বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের মাসিক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও জুলাই মাসে সেই সংখ্যা কমে ৩০৬টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মোট নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংখ্যাগতভাবে কিছুটা কমলেও নির্যাতনের ধরন ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৯০টিতে পৌঁছেছে, যেখানে জুন মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৮টি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও সামান্য বেড়ে ২২টিতে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে। জুন মাসে ১৭টি আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেলেও জুলাই মাসে তা বেড়ে ২৮টিতে দাঁড়িয়েছে। এমএসএফের মতে, সামাজিক চাপ, সহিংসতা এবং বিচারহীনতার মতো বিষয়গুলো এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে অবশ্য ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে। জুলাই মাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬টি থেকে কমে ৭টিতে নেমেছে। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫টি থেকে কমে ৩টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৫৬টি থেকে কমে ৪২টিতে এবং নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা ৭৬টি থেকে কমে ৫২টিতে নেমে এসেছে। তবে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১২টি থেকে বেড়ে ১৩টি হয়েছে এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা জুন ও জুলাই—উভয় মাসেই একটি করে ঘটেছে।

এমএসএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ, আত্মহত্যা এবং বিচারহীনতার মতো বিষয়গুলো এখনো গভীর উদ্বেগের কারণ। এসব অপরাধ রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা তানভীরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

জুলাইয়ে নারী নির্যাতন কমলেও বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের মাসিক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩২০টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও জুলাই মাসে সেই সংখ্যা কমে ৩০৬টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মোট নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংখ্যাগতভাবে কিছুটা কমলেও নির্যাতনের ধরন ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ৯০টিতে পৌঁছেছে, যেখানে জুন মাসে এই সংখ্যা ছিল ৬৮টি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনাও সামান্য বেড়ে ২২টিতে পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে। জুন মাসে ১৭টি আত্মহত্যার তথ্য পাওয়া গেলেও জুলাই মাসে তা বেড়ে ২৮টিতে দাঁড়িয়েছে। এমএসএফের মতে, সামাজিক চাপ, সহিংসতা এবং বিচারহীনতার মতো বিষয়গুলো এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে অবশ্য ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে। জুলাই মাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৬টি থেকে কমে ৭টিতে নেমেছে। ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ৫টি থেকে কমে ৩টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ৫৬টি থেকে কমে ৪২টিতে এবং নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা ৭৬টি থেকে কমে ৫২টিতে নেমে এসেছে। তবে অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা ১২টি থেকে বেড়ে ১৩টি হয়েছে এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা জুন ও জুলাই—উভয় মাসেই একটি করে ঘটেছে।

এমএসএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ, আত্মহত্যা এবং বিচারহীনতার মতো বিষয়গুলো এখনো গভীর উদ্বেগের কারণ। এসব অপরাধ রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।