লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেউতায় অভিবাসী সংকট: চার দিনে মরক্কোয় ফিরল ৬৯,৫০০ জন

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করা হাজারো অভিবাসীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার শত শত অভিবাসী সেউতার একটি সমুদ্রসৈকতে অস্থায়ী শিবির গড়ে তুলেছেন। স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জন অভিবাসীকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, গত বৃহস্পতিবার সেউতায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছিলেন। এই সংকটে এখন পর্যন্ত স্পেনের সীমান্ত অংশে ৭২ জন এবং মরক্কোর অংশে ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছেন। এছাড়া স্থানীয়দের বিরূপ আচরণ এবং স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যেতে না পারায় তারা সেউতায় আটকা পড়েছেন। মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউতা ও মেলিয়া হলো স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল, যেখানে ইউরোপে প্রবেশের আশায় নিয়মিত অভিবাসীরা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, এল ট্রাম্পোলিন সৈকতে শত শত সাব-সাহারান অভিবাসী বালুর ওপর শুয়ে আছেন এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে শরীরে তোয়ালে জড়িয়ে রেখেছেন। সৈকতের পাশের সড়কে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যানবাহন টহল দিচ্ছে।

সেউতার প্রশাসনিক প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, বর্তমানে ছিটমহলটিতে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন। তার মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য থাকা দুটি অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্রই কার্যত ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তা আলবার্তো গাইতানের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮৬২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক ও স্প্যানিশ আইনের আওতায় তারা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি সুরক্ষা ভোগ করেন।

এই অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য জোরালো হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত নীতি নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, সংকট শুরু থেকেই মরক্কো সীমান্ত পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করেছে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই অধিকাংশ অভিবাসীকে দ্রুত ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে সেউতার প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মরক্কো এমন একটি পরিস্থিতি ঘটতে দিয়েছে, তাই দেশটিকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখা কঠিন। তিনি স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসকে বলেন, মরক্কো আমাদের দেখিয়েছে যে তারা নির্ভরযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য, মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা এবং সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করে স্পেনের একটি আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা জানিয়েছেন, সীমান্তে এত বড় ঢলের বিষয়ে দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (সিএনআই) তাকে আগাম সতর্ক করেনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা গুরুত্বহীন বলে দাবি করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, গোয়েন্দা কার্যক্রম গোপনীয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী এ সংকট মোকাবিলায় অসাধারণ কাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার ইইউ সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকা হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস ইতালির সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পেও ভৈরব নদের দুর্গতি কাটেনি

সেউতায় অভিবাসী সংকট: চার দিনে মরক্কোয় ফিরল ৬৯,৫০০ জন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করা হাজারো অভিবাসীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার শত শত অভিবাসী সেউতার একটি সমুদ্রসৈকতে অস্থায়ী শিবির গড়ে তুলেছেন। স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে প্রায় ৬৯ হাজার ৫০০ জন অভিবাসীকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, গত বৃহস্পতিবার সেউতায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছিলেন। এই সংকটে এখন পর্যন্ত স্পেনের সীমান্ত অংশে ৭২ জন এবং মরক্কোর অংশে ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছেন। এছাড়া স্থানীয়দের বিরূপ আচরণ এবং স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যেতে না পারায় তারা সেউতায় আটকা পড়েছেন। মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউতা ও মেলিয়া হলো স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল, যেখানে ইউরোপে প্রবেশের আশায় নিয়মিত অভিবাসীরা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, এল ট্রাম্পোলিন সৈকতে শত শত সাব-সাহারান অভিবাসী বালুর ওপর শুয়ে আছেন এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে শরীরে তোয়ালে জড়িয়ে রেখেছেন। সৈকতের পাশের সড়কে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যানবাহন টহল দিচ্ছে।

সেউতার প্রশাসনিক প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জানিয়েছেন, বর্তমানে ছিটমহলটিতে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন। তার মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য থাকা দুটি অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্রই কার্যত ধারণক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তা আলবার্তো গাইতানের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮৬২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক ও স্প্যানিশ আইনের আওতায় তারা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি সুরক্ষা ভোগ করেন।

এই অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য জোরালো হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত নীতি নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, সংকট শুরু থেকেই মরক্কো সীমান্ত পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা করেছে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই অধিকাংশ অভিবাসীকে দ্রুত ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে সেউতার প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মরক্কো এমন একটি পরিস্থিতি ঘটতে দিয়েছে, তাই দেশটিকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখা কঠিন। তিনি স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসকে বলেন, মরক্কো আমাদের দেখিয়েছে যে তারা নির্ভরযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য, মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা এবং সমুদ্রে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করে স্পেনের একটি আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা জানিয়েছেন, সীমান্তে এত বড় ঢলের বিষয়ে দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (সিএনআই) তাকে আগাম সতর্ক করেনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধের খবর প্রকাশিত হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা গুরুত্বহীন বলে দাবি করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, গোয়েন্দা কার্যক্রম গোপনীয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী এ সংকট মোকাবিলায় অসাধারণ কাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার ইইউ সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকা হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস ইতালির সরকারের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন, তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে।