লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তার কারাবাসের পরিবেশ, চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে অভিযোগ তুলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পিটিআই।

শুক্রবার পিটিআই নেতারা কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ নিয়ে বৈঠক করেন। রোববার থেকে ধাপে ধাপে সমর্থকদের ইসলামাবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, নাকি কর্মসূচি আরও কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়া হবে—এ নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়।

পিটিআই জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে বিপুলসংখ্যক সমর্থক রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও এই কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আফ্রিদি বলেন, ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার উন্নতি এবং তার মামলাগুলোর ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে আন্দোলন থেকে সরে আসবে না পিটিআই।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন ঠেকাতেই সরকার ইসলামাবাদকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে এবং দলের নেতাকর্মীদের আটক করছে। তার দাবি, ইমরান খানের প্রতি সমর্থন জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামতে পারেন।

তবে পিটিআইয়ের এই কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন আফ্রিদি। অতীতেও ইমরান সমর্থকদের বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ইসলামাবাদমুখী সমাবেশ ঠেকাতে খাইবার পাখতুনখোয়ায়ও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পেশোয়ারের সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বসানো হয়েছে কনটেইনার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধক।

ইসলামাবাদে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুগুলোতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে।

সরকারের নেওয়া এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সমস্যার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সরকারের পদক্ষেপকে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার অভিযোগ, পিটিআইয়ের কর্মসূচি থেকে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা তৈরি হতে পারে। তাই কোনো সহিংস গোষ্ঠীকে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইমরান খানকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে পিটিআই। দলটির দাবি, ইমরানকে একাকী বন্দি রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারেরও নিজস্ব বক্তব্য রয়েছে।

ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাকে ঠেকাতেই এসব মামলা ও কারাবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইমরান খান কারাগারে থাকার পরও পাকিস্তানের রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পিটিআইয়ের বর্তমান কর্মসূচি বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিয়াজ মুর্তজা মনে করেন, পাকিস্তানে বর্তমানে অর্থনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তার মতে, দমন-পীড়নের মাত্রা আরও বাড়লে এই অসন্তোষ দ্রুত বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তার কারাবাসের পরিবেশ, চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে অভিযোগ তুলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পিটিআই।

শুক্রবার পিটিআই নেতারা কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ নিয়ে বৈঠক করেন। রোববার থেকে ধাপে ধাপে সমর্থকদের ইসলামাবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, নাকি কর্মসূচি আরও কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়া হবে—এ নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়।

পিটিআই জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে বিপুলসংখ্যক সমর্থক রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও এই কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আফ্রিদি বলেন, ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার উন্নতি এবং তার মামলাগুলোর ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে আন্দোলন থেকে সরে আসবে না পিটিআই।

তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন ঠেকাতেই সরকার ইসলামাবাদকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে এবং দলের নেতাকর্মীদের আটক করছে। তার দাবি, ইমরান খানের প্রতি সমর্থন জানাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাস্তায় নামতে পারেন।

তবে পিটিআইয়ের এই কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন আফ্রিদি। অতীতেও ইমরান সমর্থকদের বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ইসলামাবাদমুখী সমাবেশ ঠেকাতে খাইবার পাখতুনখোয়ায়ও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পেশোয়ারের সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর একটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বসানো হয়েছে কনটেইনার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধক।

ইসলামাবাদে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুগুলোতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে।

সরকারের নেওয়া এসব পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সমস্যার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সরকারের পদক্ষেপকে নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার অভিযোগ, পিটিআইয়ের কর্মসূচি থেকে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা তৈরি হতে পারে। তাই কোনো সহিংস গোষ্ঠীকে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইমরান খানকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে পিটিআই। দলটির দাবি, ইমরানকে একাকী বন্দি রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারেরও নিজস্ব বক্তব্য রয়েছে।

ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাকে ঠেকাতেই এসব মামলা ও কারাবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইমরান খান কারাগারে থাকার পরও পাকিস্তানের রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পিটিআইয়ের বর্তমান কর্মসূচি বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিয়াজ মুর্তজা মনে করেন, পাকিস্তানে বর্তমানে অর্থনীতি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তার মতে, দমন-পীড়নের মাত্রা আরও বাড়লে এই অসন্তোষ দ্রুত বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান