লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১৫, এলাকায় আতঙ্ক

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক আলোচনা সভায় উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড়ে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের জেরে কলেজ রোড এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে ছাত্রদল কর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম ও রাসেল রয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ এবং বন্দর থানার সভাপতি আসাদুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা একে অপরকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। কলেজের ভেতরে তাদের ৩০ জনের মতো এবং ডাকবাংলোর মোড়ে প্রায় ২০০ জন কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। ভেতরে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি আরও দাবি করেন, হামলায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং শিবিরের কলেজ সভাপতি এমদাদুল হক শুভ নিজে অস্ত্র হাতে হামলা করেছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি অমিত হাসান বলেন, কলেজের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের বাইরে আমাদের কলেজ শাখার সভাপতি শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে বেধড়ক পেটানো হয়। এই খবর পেয়ে আমি ছাত্রদল নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়ার সময় ডাকবাংলোর মোড়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, তোলারাম কলেজের আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজাপুরে চোরের আঙুল কামড়ে বিচ্ছিন্ন করলেন প্রবাসীর স্ত্রী

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১৫, এলাকায় আতঙ্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক আলোচনা সভায় উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড়ে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের জেরে কলেজ রোড এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের মধ্যে ছাত্রদল কর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম ও রাসেল রয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ এবং বন্দর থানার সভাপতি আসাদুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা একে অপরকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। কলেজের ভেতরে তাদের ৩০ জনের মতো এবং ডাকবাংলোর মোড়ে প্রায় ২০০ জন কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। ভেতরে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি আরও দাবি করেন, হামলায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং শিবিরের কলেজ সভাপতি এমদাদুল হক শুভ নিজে অস্ত্র হাতে হামলা করেছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি অমিত হাসান বলেন, কলেজের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের বাইরে আমাদের কলেজ শাখার সভাপতি শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে বেধড়ক পেটানো হয়। এই খবর পেয়ে আমি ছাত্রদল নেতাদের সাথে কথা বলতে যাওয়ার সময় ডাকবাংলোর মোড়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান জানান, তোলারাম কলেজের আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি।