লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক ডিগ্রি এবং ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। বিমানবন্দরে নামার পর নতুন ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন তাদের চোখে থাকে, বাস্তবতার সঙ্গে তার দূরত্ব টের পেতে খুব বেশি সময় লাগে না। আবাসন সংকট, খণ্ডকালীন কাজের দীর্ঘ অপেক্ষা, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং একাকীত্ব—সব মিলিয়ে অনেকের জন্য প্রথম কয়েক মাস টিকে থাকার লড়াই হয়ে ওঠে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিক্ষাগন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। মানসম্মত শিক্ষা ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের টানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে ভিড় করেন। তবে সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থের মতো বড় শহরগুলোতে আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় নতুন শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে। বাসা ভাড়া, খাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা, মোবাইল ও ইন্টারনেট বিল এবং পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেককে প্রতিটি ডলার হিসাব করে ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে সিডনিতে বাসা খোঁজা নতুনদের জন্য একটি কঠিন অভিজ্ঞতা। বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে বাড়তি জামানত, আয়ের প্রমাণ, পরিচয়পত্রসহ নানা শর্ত এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ার আগে অস্থায়ী আবাসনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার খরচ কমাতে কয়েকজন মিলে ফ্ল্যাট বা ছোট ঘর ভাগ করে থাকছেন। সিডনির সিকিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কাব্য কর জানান, প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অগ্রিম ভাড়া ও জামানতের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে শুরুতেই সঞ্চয় দ্রুত কমে যায়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করে।

কাজের বাজারেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশ ছাড়ার আগে অনেকের ধারণা থাকে যে পৌঁছানোর পরপরই খণ্ডকালীন কাজ পাওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা সহজ নয়। কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, স্থানীয় কর্ম-অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের রেজ্যুমে এবং নির্দিষ্ট সনদ না থাকলে আবেদন করেও সাড়া পাওয়া কঠিন। এর ফলে অনেকে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত কাজের অপেক্ষায় থাকেন, যা তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক নির্ভরতা বাড়ায়। ভিক্টোরিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সিডনি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী জালাল উদ্দীন জানান, পড়াশোনার চাপের পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের দায়িত্ব পালন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পড়াশোনা ও কাজের হিসাব মেলাতে গিয়ে তাদের অবসর বা বিশ্রামের সময়ও কমে যায়।

আর্থিক চাপের পাশাপাশি পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং সামাজিক পরিমণ্ডলের অভাব অনেকের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং ও ক্যারিয়ার সেবা গ্রহণ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার প্রাথমিক খরচও বেড়েছে। শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক ওভারসিজ স্টুডেন্ট হেলথ কভারের (ওএসএইচসি) খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক শিক্ষার্থী ভিসায় নতুন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। তাই অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও খরচের পাশাপাশি কোর্স নির্বাচন ও ভিসার শর্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তত কয়েক মাসের ব্যয় বহনের মতো অর্থ হাতে রাখা, আগেভাগে আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক ডিগ্রি এবং ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। বিমানবন্দরে নামার পর নতুন ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন তাদের চোখে থাকে, বাস্তবতার সঙ্গে তার দূরত্ব টের পেতে খুব বেশি সময় লাগে না। আবাসন সংকট, খণ্ডকালীন কাজের দীর্ঘ অপেক্ষা, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং একাকীত্ব—সব মিলিয়ে অনেকের জন্য প্রথম কয়েক মাস টিকে থাকার লড়াই হয়ে ওঠে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিক্ষাগন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। মানসম্মত শিক্ষা ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের টানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এখানে ভিড় করেন। তবে সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন ও পার্থের মতো বড় শহরগুলোতে আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় নতুন শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে। বাসা ভাড়া, খাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা, মোবাইল ও ইন্টারনেট বিল এবং পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেককে প্রতিটি ডলার হিসাব করে ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশেষ করে সিডনিতে বাসা খোঁজা নতুনদের জন্য একটি কঠিন অভিজ্ঞতা। বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে বাড়তি জামানত, আয়ের প্রমাণ, পরিচয়পত্রসহ নানা শর্ত এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পাওয়ার আগে অস্থায়ী আবাসনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার খরচ কমাতে কয়েকজন মিলে ফ্ল্যাট বা ছোট ঘর ভাগ করে থাকছেন। সিডনির সিকিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কাব্য কর জানান, প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অগ্রিম ভাড়া ও জামানতের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে শুরুতেই সঞ্চয় দ্রুত কমে যায়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করে।

কাজের বাজারেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশ ছাড়ার আগে অনেকের ধারণা থাকে যে পৌঁছানোর পরপরই খণ্ডকালীন কাজ পাওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে তা সহজ নয়। কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, স্থানীয় কর্ম-অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক মানের রেজ্যুমে এবং নির্দিষ্ট সনদ না থাকলে আবেদন করেও সাড়া পাওয়া কঠিন। এর ফলে অনেকে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত কাজের অপেক্ষায় থাকেন, যা তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক নির্ভরতা বাড়ায়। ভিক্টোরিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সিডনি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী জালাল উদ্দীন জানান, পড়াশোনার চাপের পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের দায়িত্ব পালন করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পড়াশোনা ও কাজের হিসাব মেলাতে গিয়ে তাদের অবসর বা বিশ্রামের সময়ও কমে যায়।

আর্থিক চাপের পাশাপাশি পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং সামাজিক পরিমণ্ডলের অভাব অনেকের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং ও ক্যারিয়ার সেবা গ্রহণ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি ও স্থানীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার প্রাথমিক খরচও বেড়েছে। শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং বাধ্যতামূলক ওভারসিজ স্টুডেন্ট হেলথ কভারের (ওএসএইচসি) খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক শিক্ষার্থী ভিসায় নতুন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য আনার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। তাই অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও খরচের পাশাপাশি কোর্স নির্বাচন ও ভিসার শর্ত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তত কয়েক মাসের ব্যয় বহনের মতো অর্থ হাতে রাখা, আগেভাগে আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং ইংরেজিতে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।