লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিএনপি

বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার মুখে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে। দলটির নেতারা বলছেন, এটি কোনো চাপের মুখে নয়, বরং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার অংশ।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর লাগাতার কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও মাঠের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটিকে পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় অঘোষিত কর্মসূচিও শুরু হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে দলের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিএনপির নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, কোনো চাপের কারণে নয়, বরং বিরোধীদের ‘অপপ্রচার’ মোকাবিলা, আওয়ামী লীগের তৎপরতার জবাব দেওয়া এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মানুষের সামনে তুলে ধরতেই তারা এই কর্মসূচিগুলো হাতে নিয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির দায় সরকারের নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দাম বাড়ানোর পরও সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান বহন করবে। রিজভী জানান, বিরোধী দলের বিভ্রান্তি দূর করা এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির মোকাবিলাই তাদের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিএনপি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতার ধরন থেকে বোঝা যাচ্ছে, দলটি সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে মাঠে সক্রিয় থাকাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি হয়। ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন, এসব তৎপরতার কারণে সরকার চাপ অনুভব করছে। তবে তিনি জানান, জ্বালানির সমস্যা সরকার ও বিরোধী দল সবার জন্যই সমান এবং দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই তারা কর্মসূচি দিচ্ছেন।

২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় ভর্তুকি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, দাম না বাড়ালে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বা লোকসানের চাপ তৈরি হতো। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়ায় সরকারের খুব বেশি বিকল্প ছিল না, তবে বৃদ্ধির হার আরও সহনীয় হতে পারত। সব মিলিয়ে, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের তৎপরতার মধ্যে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি সামরিক বিমান অবতরণের অনুমতি দিল না সৌদি আরব

রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৪:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর লাগাতার কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও মাঠের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটিকে পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় অঘোষিত কর্মসূচিও শুরু হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে দলের ভেতরে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিএনপির নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, কোনো চাপের কারণে নয়, বরং বিরোধীদের ‘অপপ্রচার’ মোকাবিলা, আওয়ামী লীগের তৎপরতার জবাব দেওয়া এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান মানুষের সামনে তুলে ধরতেই তারা এই কর্মসূচিগুলো হাতে নিয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির দায় সরকারের নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দাম বাড়ানোর পরও সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান বহন করবে। রিজভী জানান, বিরোধী দলের বিভ্রান্তি দূর করা এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির মোকাবিলাই তাদের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিএনপি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতার ধরন থেকে বোঝা যাচ্ছে, দলটি সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে মাঠে সক্রিয় থাকাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি হয়। ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেছেন, এসব তৎপরতার কারণে সরকার চাপ অনুভব করছে। তবে তিনি জানান, জ্বালানির সমস্যা সরকার ও বিরোধী দল সবার জন্যই সমান এবং দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই তারা কর্মসূচি দিচ্ছেন।

২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় ভর্তুকি কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, দাম না বাড়ালে শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং সব ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বা লোকসানের চাপ তৈরি হতো। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মনে করেন, বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়ায় সরকারের খুব বেশি বিকল্প ছিল না, তবে বৃদ্ধির হার আরও সহনীয় হতে পারত। সব মিলিয়ে, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের তৎপরতার মধ্যে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।